জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান ‘কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেডের’ জেটিতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রথমবারের মতো পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ানো হয়েছে। জেটিতে ভেড়ানোর পর বিকেলে জাহাজ থেকে রডের কাঁচামাল পুরোনো লোহার টুকরা খালাস শুরু হয়। আমদানি পণ্যবাহী জাহাজের জট কমাতে বেসরকারি জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর যে উদ্যোগ চট্টগ্রাম বন্দর নিয়েছে, এটি তারই প্রথম পদক্ষেপ।
কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপাড়ে আনোয়ারায় কর্ণফুলী ড্রাই ডকের দুটি জেটি রয়েছে। একটি নির্মাণাধীন। আরেকটি জেটির নির্মাণ শেষ হয়েছে এ মাসে। নির্মাণ শেষ হওয়ার পরই প্রথমবারের মতো আজ ‘এমভি দিনা ওশেন’ নামের জাহাজটি ভেড়ানো হলো। প্রায় ১৫৪ মিটার লম্বা জাহাজটি জাপান থেকে ১৫ হাজার ২২১ টন পুরোনো লোহার টুকরা নিয়ে এসেছে।
কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, নির্মাণাধীন জেটিটিও এ মাসে প্রস্তুত হবে। তখন একসঙ্গে দুটো জাহাজ ভেড়ানো যাবে। তাতে দুই জেটিতে মাসে ১০-১২টি জাহাজ ভেড়ানো যাবে। আগামী মাসেই এই জেটিতে ১৭০ মিটার লম্বা জাহাজ ভেড়ানোর উপযোগী করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বাড়তে থাকায় কয়েক মাস ধরে জাহাজের জট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ পণ্যবাহী কোনো কোনো জাহাজ কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষার পর জেটি বরাদ্দ না পাওয়ার নজির তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সব জেটি ব্যবহারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে এই জেটিতে জাহাজ ভেড়ানো হলো।

default-image
বিজ্ঞাপন
বেসরকারি জেটিতে মঙ্গলবার যে জাহাজ ভেড়ানো হয়েছে, সেটি জাপান থেকে ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম গ্রুপের কাঁচামাল নিয়ে এসেছে।

বেসরকারি জেটিতে মঙ্গলবার যে জাহাজ ভেড়ানো হয়েছে, সেটি জাপান থেকে ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম গ্রুপের কাঁচামাল নিয়ে এসেছে। এটি ভেড়ানোর পর বন্দরের জেটিতে ভেড়ানোর অপেক্ষায় বহির্নোঙরে ছিল নয়টি জাহাজ।
জানতে চাইলে বিএসআরএম গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, ‘বন্দরের খুবই ভালো পদক্ষেপ এটি। কারণ, জেটির অভাবে বহির্নোঙরে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো। এ পদক্ষেপে কিছুটা হলেও জট কমবে। বন্দরের চেয়ে এই জেটি ব্যবহারে ঘুরপথে পণ্য কারখানায় নেওয়ার জন্য খরচ একটু বেশি হবে। এরপরও কাঁচামালের অভাবে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হবে না।’
জটের কারণে কয়েক বছর ধরে অনিয়মিতভাবে নৌবাহিনী পরিচালিত জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাই ডকের জেটি ব্যবহার করে আসছে বন্দর। এ ছাড়া আমদানিকারকের চাহিদা অনুযায়ী বিচ্ছিন্নভাবে মাঝেমধ্যে আরও কয়েকটি সরকারি সংস্থার বিশেষায়িত জেটি ব্যবহৃত হতো।
বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, পণ্য আমদানির চাপ বাড়লেও জাহাজ যাতে বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে না হয়, সে জন্যই এ উদ্যোগ। পর্যায়ক্রমে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সব বিশেষায়িত জেটি ব্যবহারের আওতায় আনা হচ্ছে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন