প্রস্তাব আসছে, তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বেশি এসেছে। বৈচিত্র্যময় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কারখানায়। এতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রায় ১০ কোটি ডলার। বাংলাদেশে প্রাইভেট কার সংযোজনের কারখানা থাকলেও

এখন পর্যন্ত উৎপাদনের কোনো কারখানা নেই। আবার বৈদ্যুতিক গাড়ি সংযোজনের কারখানা নেই। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে গাড়ি উৎপাদনের কারখানা হবে এই খাতে প্রথম।

এই কারখানায় বছরে ২৫ হাজার চার চাকার গাড়ি (সেডান কার, এসইউভি, মাইক্রোবাস, মিনিট্রাক), ৫০ হাজার তিন চাকার যান ও ১ লাখ ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। আগামী বছর উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে কারখানাটির। ৭ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকায় মিলবে এসব গাড়ি।

বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক গাড়ির বড় বাজার তৈরি হবে। কারণ, বৈদ্যুতিক গাড়ি যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনি সাশ্রয়ী। ভবিষ্যতের বড় বাজারের কথা মাথায় রেখে এই খাতে বিনিয়োগ করেছি আমরা।’

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা বেজার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মোট ২৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ২০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। বিনিয়োগের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রচলিত পণ্যেই বিনিয়োগ বেশি করছেন উদ্যোক্তারা।

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে প্রচলিত পণ্যের দুটি খাতের প্রতিটিতে বিনিয়োগ শতকোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই দুটি হলো পোশাক ও টেক্সটাইল খাত এবং লৌহ ও ইস্পাত খাত। পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগকারীও বেশি। আবার ইস্পাত খাতে রড, ঢেউটিন, ভবন ও স্থাপনা নির্মাণের কাঠামোর মতো বহু পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ হচ্ছে। এ ছাড়া রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য, ওষুধ, জুতা, ইলেকট্রনিকস, কাচ, আসবাব, প্লাস্টিক, সিরামিকস, পার্সোনাল কেয়ার, রং, টায়ার, সোলার প্যানেল তৈরি ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করবে উদ্যোক্তারা।

শিল্পনগরে ওষুধশিল্পের কাঁচামাল ‘অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই উৎপাদনের কারখানায় বিনিয়োগ করবে দেশি–বিদেশি চারটি প্রতিষ্ঠান। রং তৈরির দুটি কারখানা হচ্ছে এই শিল্পনগরে। এ দুটি হলো যুক্তরাজ্যের বার্জার পেইন্টস এবং ভারতের এশিয়ান পেইন্টস। চামড়া ও চামড়াবিহীন জুতা তৈরির কারখানায় বিনিয়োগ করছে দুটি প্রতিষ্ঠান। শিল্পনগরে হোটেল ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করবে দেশীয় চারটি প্রতিষ্ঠান।এ রকম বহু পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ হচ্ছে।

বেজা জানিয়েছে, শিল্পনগরে উৎপাদিত পণ্য যেমন রপ্তানি হবে, তেমনি দেশেও ব্যবহৃত হবে। রপ্তানি বাজারকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীরা নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ করেছেন। আবার দেশে বড় ভোক্তাশ্রেণি তৈরি হওয়ায় চাহিদা মেটাতে প্রচলিত পণ্যেও বিনিয়োগ করছেন উদ্যোক্তারা।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন