‘ভালোবেসে কেউ টিকা দেবে না’

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

ভালোবেসে কেউ আমাদের করোনার টিকা দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে টিকা। কিছু দেশ, যারা সারাক্ষণ গণতন্ত্র, স্বাধীনতার কথা বলে, তারা উড়োজাহাজ ভরে ভরে টিকা নিয়ে নিচ্ছে। সে কারণে দরিদ্র দেশগুলো কাঙ্ক্ষিত টিকা পাচ্ছে না।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) যৌথ উদ্যোগে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আজ সোমবার বিকেলে অনলাইনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।  

অনুষ্ঠানে আমলাতন্ত্রের বিশাল সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, আমলাতন্ত্র ও সংস্কার একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আমলাতন্ত্র বই দেখে কাজ করে। সেই বইগুলো প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন না করলে কিছু হবে না। কারণ, বইয়ে মান্ধাতা আমলের এমন কিছু আইন আছে, যা বর্তমান সময়ের জন্য ক্ষতিকর।

করোনার টিকা না দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলে লাভ হবে না। কারণ, করোনা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এসবের কিছুই হবে না।
আহসান এইচ মনসুর, নির্বাহী পরিচালক, পিআরআই

বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সমস্যা আছে বলে স্বীকার করে এম এ মান্নান বলেন, ‘কিছুদিনের মধ্যেই উন্নতি দেখবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভ্যাট নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি। পুরো ব্যবস্থাটি কীভাবে সংস্কার করা যায়, সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

আলোচনার শুরুতে বক্তব্য দেন এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির ও পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক এম এ রাজ্জাক ও এমসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আদিব এইচ খান।

পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনার টিকা না দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলে লাভ হবে না। কারণ, করোনা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এসবের কিছুই হবে না। করোনার টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সাধারণ জনগণ, আমলাসহ সব স্তরের মানুষকে যুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, করোনাকালে নতুন গরিবের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু বাজেটে তাঁদের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। তাতে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা বাড়বে। তবে মহামারিতে যাঁরা চাকরি বা ব্যবসা হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বাজেটে।’

আহসান এইচ মনসুরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, করোনাকালের নতুন দারিদ্র্যের বিষয়টি সাময়িক। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে প্রধানমন্ত্রী অস্ত্র দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে গৃহহীনদের বাড়ি, খাওয়ার পানি ও বিদ্যুতায়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, কোম্পানির লাভ-লোকসান যা–ই হোক না কেন, ন্যূনতম কর দিতে হয়। সত্যিকার অর্থেই যেসব কোম্পানি লোকসান করবে, তাদের জন্য বিষয়টি বোঝা।

বাজেটে দেওয়া সুযোগ-সুবিধা আমাদের কাছে কীভাবে কতটা বাস্তবে পৌঁছায়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
নিহাদ কবির, সভাপতি, এমসিসিআই

প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে কি না, সে বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নিহাদ কবির বলেন, বাজেটে যেসব কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ইতিবাচক। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বাজেটে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি গতানুগতিক বাজেট নয়। তিনি বলেন, ‘বাজেটে দেওয়া সুযোগ-সুবিধা আমাদের কাছে কীভাবে কতটা বাস্তবে পৌঁছায়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।’

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ই-কমার্স খাতে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা দেওয়া যায় কি না, সেই প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতি ও বাজেটের আকার বড় হলেও সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তার সংখ্যা সেভাবে বাড়েনি। সেই তুলনায় বাজেট বাস্তবায়ন সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রণালয়–সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, জাতির সামনে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, সেটি সরকারের জন্য বিরাট সাফল্যের।