বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোদ্দা কথা হচ্ছে, চলতি বছর তৈরি পোশাক খাতের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে কম দামের শঙ্কা। কারণ, ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড নড়ছে না। সুতার দাম বাড়তি। ক্রেতারা সামান্য ক্ষতিপূরণ দিলেও পোশাকের বাড়তি দাম দিচ্ছে না। তারা পোশাক কেনার ধরন বদলাচ্ছে না। গত বছর আমাদের কোম্পানিতে তিন-চারটি নতুন ক্রেতা প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে। তাদের জায়গা করে দিতে হবে। সেটা আবার এত সহজে করা যায় না। অনেক ক্রেতার সঙ্গে বহুদিনের সম্পর্ক। কাজেই নানা রকম দ্বন্দ্বের মধ্যে আমরা রয়েছি। সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ আর সম্প্রসারণের সম্ভাবনার মধ্যে আমাদের সমন্বয় করে কার্যকর বিনিয়োগ করতে হবে। বেছে বেছে ক্রয়াদেশ নিতে হবে। তা না হলে একদিন ক্রয়াদেশ কমে গেলে একজন আরেকজনের ক্রয়াদেশ নিয়ে আবারও টানাটানি করব। এটি স্বাস্থ্যকর হবে না।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হবে। তারপর আরও তিন বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পণ্য রপ্তানিতে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা জিএসপি পাব। তারপরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংযোগশিল্পের ওপর নজর দিতে হবে। চলতি বছর নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সংযোগশিল্প ও কৃত্রিম তন্তুর দিকে যেতে হবে। জোর দিতে হবে বিপণনে। কারখানার সক্ষমতার ২০ শতাংশের বেশি কোনো ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাজ নেওয়া যাবে না। সেটি মানা হলে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে না কারখানা।

ছোট কারখানার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ২০০, ৫০০ কিংবা ১০০০ পিছের ক্রয়াদেশ দেয়। দামও ভালো। সে কারণে আমাদের পোশাকশিল্পে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা প্রয়োজন। এসব কারখানা চলতি শতকের আলোকবর্তিকা হবে। কারণ, বর্তমানে লাখ লাখ পিছ ক্রয়াদেশ যারা দেয়, তারাই কিন্তু ছোট কারখানা পেলে ভাগ ভাগ করে ক্রয়াদেশ দিতে পারে। তাতে যেটি হবে, নানা সমস্যা ও শর্তের কারণে বড় ক্রয়াদেশে প্রায়ই মূল্যছাড় দিতে হয়। উড়োজাহাজে নিজের অর্থে পণ্য পাঠাতে হয়। ছোট-মাঝারি কারখানা হলে সেটি কমে আসবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বর্তমানে যাঁরা ব্যবসায় আছেন, তাঁদের ব্যবসা বহুমুখীকরণে যেতে হবে। একটিমাত্র পণ্য রপ্তানিতে থাকলে ব্যবসায় টেকসই হওয়া যায় না।

রুবানা হক, সাবেক সভাপতি, বিজিএমইএ

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন