default-image

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) ২০২১-২৩ মেয়াদের নেতৃত্ব নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোট না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, পদসংখ্যার চেয়ে বাড়তি চারজনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। গতবারও এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্ব নির্বাচনে সাধারণ সদস্যরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।

সব মিলিয়ে আগামী মেয়াদের জন্য সংগঠনটিতে মোট পরিচালক পদ ৮০টি। এসব পদ আবার দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে ৪০টি পদে পরিচালক হবেন দেশের জেলাভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন বা চেম্বার থেকে। বাকি ৪০টি পদ সংরক্ষিত পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর জন্য। ৮০ পরিচালক পদের মধ্যে ৪৬টিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। বাকি ৩৪টি পদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংগঠন থেকে মনোনীত পরিচালক হবেন।

নির্বাচিত পরিচালকেরা পরে তাঁদের মধ্য থেকে সভাপতি ও ছয়জন সহসভাপতি বেছে নেবেন। তবে বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন আগামী মেয়াদে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হচ্ছেন, সেটি মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ, সভাপতি পদে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ইতিমধ্যে সবুজ সংকেত পাওয়া জসিম উদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য কেউ নেই। অতীতেও দেখা গেছে, সভাপতি ও সহসভাপতি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ১৭ জন করে ৩৪ জন মনোনীত পরিচালক হওয়ার জন্য আবেদন করেন ৩২ জন ব্যবসায়ী। মনোনীত পরিচালক পদে প্রার্থী দেয়নি গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা)।

বিজ্ঞাপন

পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করখেলাপি হওয়ায় কে এম আখতারুজ্জামান চেম্বার গ্রুপ থেকে মনোনীত পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা হারান। অন্যদিকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার জন্য চেম্বার গ্রুপের ২৩ পরিচালক পদের বিপরীতে ২৫ জন প্রার্থী হন। আর অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ২৩ পরিচালক পদের বিপরীতে প্রার্থী হন ২৬ জন। তার মধ্যে একজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫।

এফবিসিসিআইয়ের ভোট হওয়ার কথা আগামী ৫ মে। গত মঙ্গলবার নির্বাচন বোর্ড চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে পদের চেয়ে প্রার্থী বেশি আছেন দুজন করে চারজন। ফলে চারজন প্রার্থীকে বসিয়ে দিতে পারলেই ভোটযুদ্ধে নামতে হবে না। এমন চিন্তাভাবনা থেকেই জোরেশোরে চারজন প্রার্থীকে নিবৃত্ত করার জন্য জোর চেষ্টা চলছে—কয়েকজন প্রভাবশালী প্রার্থী গতকাল এমনটাই জানান।

এফবিসিসিআইয়ের ২০১৯-২১ মেয়াদে নির্বাচনে মোট পদ ছিল ৭২টি। তার মধ্যে ৪২টি পরিচালক পদে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে পদের বিপরীতের সমানসংখ্যক মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ফলে কারও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি।

জানতে চাইলে সভাপতি প্রার্থী জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ২১ এপ্রিলের মধ্যে জানা যাবে ভোটের প্রয়োজন হবে, নাকি না।

এফবিসিসিআইয়ের ২০১৯-২১ মেয়াদে নির্বাচনে মোট পদ ছিল ৭২টি। তার মধ্যে ৪২টি পরিচালক পদে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে পদের বিপরীতের সমানসংখ্যক মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ফলে কারও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। তখনো সভাপতি পদে একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন শেখ ফজলে ফাহিম।

এর আগে ২০১৭ সালের ১৪ মে এফবিসিসিআইয়ের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে জয়ী সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। পরিচালক পদেও চেম্বার অংশে ভোটাভুটি ছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। তবে পণ্যভিত্তিক সংগঠন বা অ্যাসোসিয়েশন অংশে তখন ভোটাভুটি হয়েছিল। উৎসবমুখর পরিবেশে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ভোটাররা।

আগামী ২০২১-২৩ মেয়াদের জন্য চেম্বার গ্রুপ থেকে নির্বাচিত মনোনীত পরিচালকেরা হলেন জশোধা জীবন দেবনাথ, প্রীতি চক্রবর্তী, সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ, মো. নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ নুরুন নেওয়াজ, এ এম মাহবুব চৌধুরী, মুনাল মাহবুব, আবুল কাসেম খান, নাজ ফারহানা আহমেদ, কাজী আমিনুল হক, মো. সাইফুল ইসলাম, আমিনুল হক, মো. শামসুজ্জামান, মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, মো. রেজাউল ইসলাম ও তাহমিন আহমেদ। আর অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে নির্বাচিত পরিচালকেরা হলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার, সৈয়দ সাদাত আলমাস কবির, এস এম সফিউজ্জামান, মো. আমিন উল্লাহ, আনোয়ার উল আলম চৌধুরী, এ কে এম মনিরুল হক, মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারি, এ কে এম সেলিম ওসমান, ইকবাল হোসেন চৌধুরী, আবু হোসাইন ভূঁইয়া, খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, মোহাম্মদ আলী, মুনির হোসেন ও আলমগীর শামসুল আলামিন।

বিজ্ঞাপন

ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য চেম্বার গ্রুপ থেকে প্রার্থী হয়েছেন হাসিনা নেওয়াজ, মাসুদুর রহমান, আজিজুল হক, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা, মাসুদ পারভেজ খান, আবুল খায়ের মোরসেলিন, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, রেজাউল করিম, গাজী গোলাম আশরিয়া, গোলাম মোহাম্মদ, বিজয় কুমার কেজরিওয়াল, সুজিত রঞ্জন দাস, ইকবাল শাহরিয়ার, আলী হোসেন, শাহ জালাল, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, তবারাকুল তোসাদ্দেক হোসেন খান, মোহাম্মদ রিয়াদ আলী, খায়রুল হুদা, খান আহমেদ, মুতাসিরুল ইসলাম, এস এম জাহাঙ্গীর আলম, এম এ রাজ্জাক খান, হুমায়ূন রশিদ খান পাঠান ও সালাউদ্দিন আলমগীর।

অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে প্রার্থী হয়েছেন রব্বানী জব্বার, খন্দকার মনিউর রহমান, জামাল উদ্দিন, মুনতাকিম আশরাফ, মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ, আক্কাস মাহমুদ, রাশিদুল হাসান চৌধুরী, এম জি আর নাসির মজুমদার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, এম এ মোমেন, হাবিব উল্লাহ ডন, শফিকুল ইসলাম ভরসা, আমিন হেলালী, হাফেজ হারুন, আবু মোতালেব, ফেরদৌসী বেগম, আমজাদ হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আসলাম সেরনিয়াবাত, কাজী এরতেজা হাসান, শাহিন আহমেদ, শমী কায়সার, আবু নাসের, আলী জামান ও নাদিয়া বিনতে আমিন।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন