জানা গেছে, বর্তমানে বেসরকারি খাতের দি সিটি, প্রাইম ও ব্র্যাক ব্যাংক মোটরসাইকেল কেনায় ঋণ দিচ্ছে। এ ছাড়া ইস্টার্ন, উত্তরা ব্যাংকও মোটরসাইকেল কেনায় ঋণ দিতে নতুন সেবাপণ্য এনেছে। ঋণের আকার ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। ঋণের আকার কম হওয়ায় মোটরসাইকেল ঋণে সুদহারও বেশি। তবে এখন সর্বোচ্চ সুদ ৯ শতাংশ। এর সঙ্গে রয়েছে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত সেবা মাশুল। আর ঋণ পরিশোধ করা যায় তিন বছরে। একটি মোটরসাইকেলের দামের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকাররা বলছেন, চাকরিজীবী, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিক এ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো কোনো ব্যাংক শিক্ষার্থীদেরও এই ঋণ দিচ্ছে। বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে যাঁদের মাসিক আয় ২০ হাজার টাকা, তাঁরাই এই ঋণ পাচ্ছেন। আর ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের ক্ষেত্রে যাঁদের মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা, তাঁরা এই ঋণ পাচ্ছেন। এই ঋণ নিতে ইচ্ছুক যে কেউ সরাসরি ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে ঋণ আবেদন করতে পারেন। আবার কিছু কিছু মোটরসাইকেলের শোরুমেও ঋণ আবেদনের ব্যবস্থা আছে। অন্য ঋণের মতো মোটরসাইকেল ঋণেও সব ধরনের নথি জমা দিতে হয়।

রাজধানীর বাংলামোটরের বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলের শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, কিছু শোরুমে বিভিন্ন ব্যাংকের মোটরসাইকেল ঋণের ব্যানার ঝুলছে। গ্রাহকেরা আগ্রহী হলে শোরুমের কর্মীরাই ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো এখন সরাসরি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করছে। যেমন সুজুকি ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল কিনে সিটি ব্যাংকের অ্যামেক্স ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকেরা ৩৪ মাসে টাকা পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন। আবার ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল কিনতে ঋণ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। এ জন্য এসিআই ও ব্র্যাক ব্যাংক চুক্তি করেছে।

একজন গ্রাহকের ঋণ আবেদনের জন্য প্রয়োজন জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ই-টিআইএন ও ব্যবসায়িক কার্ড বা অফিস আইডির ফটোকপি। এ ছাড়া বেতন বা আয়ের সনদ, পরিষেবা বিলের কপি, বাইকের দামের কোটেশন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও যেকোনো ব্যাংকের সিকিউরিটি চেক জমা দিতে হয়। ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এবং বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিকের ভাড়ার রসিদ জমা দিতে হয়।

সিটি ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ অরুপ হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, তরুণদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মোটরসাইকেল কিনতে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এতে ভালো সাড়াও মিলছে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন