বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৩৬৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে চীন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। অথচ গত বছর ১২ মাসে চীন বাজারটিতে ১ হাজার ৫১৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। তখন তাদের রপ্তানি কমেছিল ৩৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। চলতি বছর রপ্তানি বাড়লেও চীনের বাজার হিস্যা ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০১৯ সালেও তাদের হিস্যা ছিল ৩০ শতাংশের কাছাকাছি।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ভিয়েতনাম ৩৪২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। গত বছর ভিয়েতনাম ১ হাজার ২৫৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। তখন দেশটির রপ্তানি কমেছিল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১৫৩ কোটি ডলারের বা ১৩ হাজার ৫ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ১৬৭ কোটি ডলারের পোশাক। সেই হিসাবে রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির ৮০ শতাংশই ওভেন পোশাকের দখলে। করোনাকালে দেশটির ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত পণ্য পেতে ওভেন পোশাকের জন্য চীন ও ভিয়েতনাম এবং নিট পোশাকের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেয়। কারণ, ওভেন পোশাকের পশ্চাৎমুখী সংযোগশিল্প দুর্বল, নিটে সবল। সে কারণে বাজারটিতে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ২০১৯ সালে চীনের হারানো ক্রয়াদেশের একটি অংশ বাংলাদেশে এসেছিল। তাতে ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছরের শুরুটাও হয়েছিল দুর্দান্ত। জানুয়ারিতে ৬২ কোটি ডলার রপ্তানির বিপরীতে প্রবৃদ্ধি হয় ১৭ শতাংশ। পরের মাসেও প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ শতাংশ। তবে করোনার কারণে মার্চ থেকে রপ্তানিতে ধস নামে। শেষ পর্যন্ত গত বছর ৫২৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবেও চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৭০ শতাংশ কমেছে বাংলাদেশের। এই সময়ে ৭৯৪ কোটি ২২ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি–মার্চে রপ্তানি হয়েছিল ৮০৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের পোশাক। যদিও চলতি বছরের চার মাস শেষে রপ্তানি প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে। কারণ, গত বছরের এপ্রিলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কারখানা বন্ধ থাকায় রপ্তানি তলানিতে নামে।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চতুর্থ ও পঞ্চম শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ যথাক্রমে ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ভারত ৯৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় দেশটির রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি করেছে ৮৭ কোটি ডলারের পোশাক। তাদের রপ্তানি কমেছে ২২ শতাংশের কাছাকাছি।

জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে ছয় মাস একই অবস্থা থাকবে, সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সে কারণে আরও কিছুদিন ক্রেতারা দ্রুততম সময়ে পণ্য পেতে চাইবেন। তিনি বলেন, দ্রুত চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়িয়ে চীন থেকে কাপড় আমদানির সময় ৮-১০ দিন কমাতে পারলে তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা উপকার হবে। আর ওভেন পোশাকের পশ্চাৎমুখী সংযোগশিল্পকে শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ লাগবে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন