default-image

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট ফোরামের নেতারা বর্তমান পর্ষদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে আবারও সুযোগ চান। তাঁরা ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যে তাঁরা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে নিজেদের প্রয়োজনে সংগঠনকে ব্যবহার করবেন না। সদস্যদের সেবা করার মাধ্যমে তৈরি পোশাকশিল্পকে শক্তিশালী খাত হিসেবে গড়ে তোলাই হবে তাঁদের মূল কাজ।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে গত শনিবার রাতে ফোরাম আয়োজিত ‘বিজিএমইএ: সংকটে সাফল্য, আগামীর সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জোটটির নেতারা। এতে বিজিএমইএর আগামী নির্বাচনে ফোরামের প্যানেল লিডার হিসেবে হান্নান গ্রুপের চেয়ারম্যান এ বি এম সামছুদ্দিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি ২০০৭-০৮ সালে বিজিএমইএর সহসভাপতি ছিলেন।

দীর্ঘ সাত বছর পর এবার বিজিএমইএর নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। গত নির্বাচনে সংগঠনটির নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম সমঝোতার মাধ্যমে প্রার্থী দেয়। তখন স্বাধীনতা পরিষদ নামে আরেকটি জোট ঢাকায় প্রার্থী দেওয়ায় নিয়ম রক্ষার ভোট হয়। আগামী ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তিন জোটই আলাদাভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সভায় বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক বর্তমান পর্ষদের বিভিন্ন সাফল্যকে ফোরামের অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচন সেবা দেওয়ার প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। একই সঙ্গে কতটা নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষ কাজ করবে, তার প্রতিযোগিতাও।

বিজ্ঞাপন

ফোরামকে ভদ্রলোকের দল হিসেবে অভিহিত করে রুবানা হক বলেন, ফোরাম সত্য, সততা ও সেবার পক্ষের দল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরস্পরের সমালোচনা করলেও সেটি যেন মাত্রা না ছাড়ায়, সেই পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে।’

ফোরাম সমর্থক মেজবাহ উদ্দিন আলী নামের এক পোশাকশিল্প মালিকের বক্তব্যে সভায় উত্তাপ ছড়ায়। তিনি বলেন, সম্মিলিত পরিষদ থেকে ক্ষমতায় এলে তাকিয়ে থাকেন কবে মন্ত্রী-এমপি হবেন। সভাপতি হওয়ার পর পোশাক ব্যবসা তাঁদের কাছে গৌণ হয়ে যায়। বিজিএমইএর সভাপতির পদ ব্যবহার করে সম্মিলিত পরিষদের একজন নেতা ড্রেজারসহ বিভিন্ন ঠিকাদারি ব্যবসা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফোরামের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেন, ‘ফোরামের নেতারা নিজের জন্য কিছু করে না, শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফলের জন্য কাজ করে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি ও আসন্ন দুই ঈদে বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য আমরা ছয় মাস নির্বাচন পেছানোর দাবি করেছিলাম। ওনারা (সম্মিলিত পরিষদ) বললেন, সমস্যা হলে দেখা যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যদি যোগ্য হই, তাহলে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন।’

ফোরাম নেতাদের দাবি, মতবিনিময় সভায় বিজিএমইএর চার শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আড়াই ঘণ্টার এই সভায় আরও বক্তব্য দেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা, ফোরামের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক বেনজির আহমেদ, বিজিএমইএর পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন