বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ইস্পাতের কাঁচামাল ও রড উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিকের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। করোনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে রড তৈরির কাঁচামাল ও রাসায়নিকের দুষ্প্রাপ্যতা তৈরি হয়েছে। এতে দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে দেশেও রডের দাম বেড়ে চলেছে।

বিএসএমএর সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ বলেন, ২০২০ সালের মার্চ-এপ্রিলে রড তৈরির কাঁচামাল মেল্টিং স্ক্র্যাপের প্রতি টনের দাম ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ মার্কিন ডলার। এখন তা বেড়ে ৫৫০ থেকে ৫৯০ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় দুই বছরের ব্যবধানে স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ২৭০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে।

অন্যদিকে গত বছর ইস্পাতপণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত প্রধান রাসায়নিক ফেরো অ্যালয়সের প্রতি টনের দাম ছিল গড়ে ৮৫০ মার্কিন ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ১ বছরের ব্যবধানে রাসায়নিকের দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ বা ৬০০ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনে কনটেইনার ভাড়া প্রায় চার গুণ বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাজারে রডের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। এ জন্য আগামী বাজেটে স্ক্র্যাপ (রড তৈরির প্রাথমিক কাঁচামাল) থেকে বিলেট (রড তৈরির মধ্যবর্তী কাঁচামাল) এবং বিলেট থেকে রড তৈরিতে ভ্যাটের পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে কমিয়ে আড়াই শ টাকা করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি যেসব কারখানা স্ক্র্যাপ থেকে বিলেট তৈরির পর সেখান থেকে রড উৎপাদন করে, তাদের ভ্যাটের পরিমাণ ২ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করার দাবি জানান।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে স্ক্র্যাপ আমদানিতে দেড় হাজার টাকা কাস্টমস ডিউটি ও ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা স্ক্র্যাপের কাস্টমস ডিউটি কমিয়ে ৫০০ টাকা এবং অগ্রিম আয়কর ১০০ টাকা করার প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে রড তৈরির রাসায়নিক আমদানিতে বর্তমানে ৮০০ টাকা কাস্টমস ডিউটি ও ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। আগামী বাজেটে রাসায়নিক আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও অগ্রিম আয়কর কমিয়ে ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বিএসএমএ নেতারা।

এ ছাড়া ইস্পাতপণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত অপর রাসায়নিক ফেরো অ্যালয়সের আমদানিতে আরোপিত নিয়ন্ত্রণমূলক বা রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি উৎপাদনের পর রড বিক্রির ক্ষেত্রে উৎসে কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করারও দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএ সভাপতি ও আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন বলেন, ‘রডের দাম বেড়ে যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে ভোক্তারা রড কেনা বন্ধ করে দেবেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমরা দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে সামনে দাম আরও বাড়বে। সেটি হলে এ খাতের সঙ্গে জড়িত সব খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।’

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন