default-image

সাগরে মেঘনা গ্রুপের আরও দুটি জাহাজে উড়ছে লাল–সবুজের পতাকা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাসে গতকাল বুধবার দুপুরে বঙ্গোপসাগরে নতুন এই দুই জাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

বিশালাকার জাহাজ দুটি হলো ‘এমভি মেঘনা প্রিন্সেস’ এবং ‘এমভি মেঘনা অ্যাডভেঞ্চার’। প্রতিটি জাহাজ লম্বায় প্রায় ২০০ মিটার। প্রতিটি ৬২ হাজার টন পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম। নতুন জাহাজ দুটিতে মেঘনা গ্রুপ বিনিয়োগ করেছে ৪৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৯১ কোটি টাকা। এতে অর্থায়ন করেছে দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ। জাহাজ দুটিতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৪২ জন দেশীয় নাবিকের। নতুন হওয়ায় দুটি জাহাজ বিশ্বের যেকোনো বন্দরে পণ্য পরিবহন করতে পারবে।

বঙ্গোপসাগরে নোঙর করে রেখে এসব বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তর করা হয়। বাংলাদেশের কোনো বন্দরের জেটিতে এ ধরনের জাহাজ ভিড়ানোর সুযোগ না থাকায় মূলত সাগরেই পণ্য স্থানান্তর করতে হয়। এ কারণে উদ্বোধন করতে অতিথিদের কর্ণফুলী নদী থেকে একটি প্রমোদতরিতে করে নেওয়া হয় বঙ্গোপসাগরে নোঙর করে রাখা ‘এমভি মেঘনা প্রিন্সেস’ জাহাজে। সেখানে জাহাজের ডেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে জাহাজ দুটি বিশ্বের এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে যাবে। শুধুই ব্যবসা নয়, বিশ্বের বন্দরে বাংলাদেশের দূত হিসেবে কাজ করবে দুটি জাহাজ। বাংলাদেশকে মানুষ চিনবে। এটা আমাদের জন্যই গর্বের।’

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাহাজ পরিচালনা খাতে উদ্যোক্তারা এগিয়ে এসেছেন। আগামী ৫–১০ বছরে আমাদের বহরে ৫০০ জাহাজ দেখতে চাই। এই খাতে এখনো যেসব সীমাবদ্ধতা আছে, তা দূর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগের দরজা খুলে দিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, সমুদ্র অর্থনীতির প্রধান খাত হলো শিপিং। শিপিং খাতে বিনিয়োগ করে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে মেঘনা গ্রুপ। মেঘনার পথ ধরে অন্যরাও এই খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে, এমন প্রত্যাশা করেন তিনি। বাল্ক জাহাজের পাশাপাশি কনটেইনার জাহাজেও বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, করোনায় বৈশ্বিক মন্দার সময় প্রধানমন্ত্রী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ নিতে বলেছিলেন। সেই সুযোগ গ্রহণ করেছে মেঘনা। নতুন এ দুটির পাশাপাশি আরও চারটি জাহাজ যুক্ত হবে আগামী বছর। এসব জাহাজে অন্তত ১০ শতাংশ কম ব্যয় হয়েছে।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন দপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর আবু জাফর মো. জালাল উদ্দিন, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক, এইচএসবিসি বাংলাদেশের হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধাম কেভিন গ্রিন, এমভি মেঘনা প্রিন্সেস জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মেঘনার বহরে এখন সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮। নিজস্ব জাহাজ ছাড়াও গ্রুপটি চারটি সমুদ্রগামী জাহাজ ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছে। আবার অভ্যন্তরীণ নৌপথে গ্রুপটির ১৪৫টি ছোট জাহাজ রয়েছে। জাহাজ নির্মাণ ও পরিচালনা ছাড়াও গ্রুপটির শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৩৫ হাজার মানুষের।

মেঘনার নতুন জাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের বহরে সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন