বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

পঞ্চমবারের মতো নিলামে ১১২টি গাড়ি তোলা হয়। এর মধ্যে ১১০টি গাড়ি কেনার জন্য ৫৫১টি দর জমা দিয়েছিল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এটি বিগত চারবারের তুলনায় রেকর্ড। পর্যটনসুবিধায় আনা পুরোনো এসব গাড়ির প্রতি ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ বাড়লেও কিছু গাড়ির দর বেশি ওঠেনি। এ জন্য অবশ্য ১১ বছর ধরে বন্দরে পড়ে থেকে জরাজীর্ণ হয়ে পড়াকে দায়ী করেছে অংশগ্রহণকারীরা।

কাস্টমসের উপকমিশনার মো. আল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, এবারের নিলামে দরদাতাদের রেকর্ড সাড়া পাওয়া গেছে। যৌক্তিক দর পর্যালোচনা করে নামীদামি ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হবে। যেগুলো বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হবে না, সেগুলো আবারও নিলামে তোলা হবে।

default-image

পর্যটনসুবিধায় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এক দশক আগে এসব গাড়ি এনেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ পর্যটকেরা। বন্দর দিয়ে আনার পর আটকে যায় সব কটি গাড়ি। কারণ, শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার রোধে ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে গাড়ি খালাসের শর্ত আরোপ করে কাস্টমস। তখন গাড়ি খালাস না নিয়ে সটকে পড়েন পর্যটকেরা। এরপর অন্তত চার দফায় নিলামে তুলে কিছুসংখ্যক গাড়ির ভালো দাম পেলেও বিক্রি করেনি কাস্টমস।

কোন গাড়ির কত দর
এবার নিলামে তোলা ১১২টি গাড়ির সংরক্ষিত মূল্য ছিল ১৮০ কোটি টাকা। গাড়ির আমদানি মূল্য ও অবচয় সুবিধা ধরে শুল্ককরসহ মোট দাম হলো সংরক্ষিত মূল্য। সাধারণত প্রথম নিলামে সংরক্ষিত মূল্যের ৬০ শতাংশের বেশি না হলে বিক্রির অনুমোদন দেয় না কাস্টমস। তবে দ্বিতীয় নিলামে প্রথম নিলামের চেয়ে বেশি দর এবং তৃতীয় নিলামে যেকোনো দর অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ আছে কাস্টমসের। এবার যেহেতু পঞ্চম নিলাম, তাই যেকোনো দর অনুমোদন দিতে পারে কাস্টমস।

এবারের নিলামে সবচেয়ে বেশি ৫৩ লাখ টাকা দর পাওয়া গেছে বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের একটি গাড়ির। চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকার ফারজানা ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই দর দিয়েছে। গাড়িটির সংরক্ষিত মূল্য ছিল ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রায় তিন হাজার সিসির এই গাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল ২০০৭ সালে। গাড়িটির চাবি নেই। ব্যাটারি ও চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। অন্য সবকিছু ভালো আছে।

default-image

প্রায় আড়াই হাজার সিসির বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের আরেকটি গাড়ির দর পড়েছে ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৪৬ লাখ ও ৪৩ লাখ টাকা দর পাওয়া গেছে দুটি গাড়ির। তবে দুই দশকের বেশি পুরোনো বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের গাড়ির দর খুব বেশি পড়েনি। মরিচা ধরা ২১ বছরের পুরোনো বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের একটি গাড়ির দর পড়েছে দেড় লাখ টাকা। আরেকটি গাড়ির দর পড়েছে তিন লাখ টাকা। মিতসুবিশি সোগান ব্র্যান্ডের একটি গাড়িতে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছেন একজন।

প্রতিবার নিলামে ল্যান্ড রোভার ব্র্যান্ডের গাড়ির দর পড়ে বেশি। ২০১৭ সালের নিলামে ল্যান্ড রোভার ব্র্যান্ডের ৪১৯৭ সিসির একটি গাড়ির দর উঠেছিল ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ২০০৬ সালে তৈরি ছয় আসনের এই গাড়ির এবার সর্বোচ্চ দর পড়েছে মাত্র ২৮ লাখ টাকা। একই ব্র্যান্ডের আরেকটি গাড়ি ২০১৬ সালে পিএইচপি গ্রুপ ১ কোটি ১১ লাখ টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছিল। বিক্রি না করায় এবারও নিলামে তোলা হয়েছিল গাড়িটি। এবার সর্বোচ্চ উঠেছে মাত্র ১৯ লাখ টাকা।

নিলামে কেপিএল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান ১৬টি গাড়ির সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে। এ ছাড়া ফারজানা ট্রেডিং ১১টি এবং শাহাদাত হোসেন ১১টি করে গাড়ির সর্বোচ্চ দরদাতা হয়।

নিলামে যাদের অনুমোদন দেওয়া হবে, তাদের গাড়ি খালাসে ১৭ শতাংশ কর দিতে হবে। আবার যেসব গাড়ি পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো অবস্থায় আমদানি হয়েছে, সেগুলোর জন্য লাগবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রও। শুধু ১৫টি গাড়ি তৈরির ৫ বছরের কম সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র লাগবে না।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন