বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভিয়েতনামের সঙ্গে আমরা প্রায়ই নিজেদের তুলনা করি। ১৯৯০ সালে চামড়া খাত থেকে ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের আয় সমান ছিল, কিন্তু সেই ভিয়েতনামের আয় এখন ১৮ বিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে উঠেছে, আর আমাদের আয় ১০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে গেছে।

কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার হলো, এই চামড়া খাতের বিকাশে সরকারও কম করেনি। ২০১৭ সালে চামড়াকে দেশের বার্ষিক পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিন চেষ্টার পর এই শিল্প সাভারে নিয়ে যাওয়া হলো, তা সত্ত্বেও কিছুতেই কিছু ঘটছে না।

মূল সমস্যাটা পরিবেশগত। সিইটিপি বা কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কারখানার ধারণক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার। অথচ সাভারে ট্যানারিপল্লিতে বর্জ্য উৎপাদিত হয় ৪০ হাজার ঘনমিটার। স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। আবার এ ব্যাপারে চাপাচাপি করা হলে ট্যানারিগুলো বলতে পারে, উৎপাদন হ্রাস করতে হলে কর্মী ছাঁটাই করতে হবে। ফলে সেখানে একধরনের উভয়সংকট আছে। এই বাস্তবতায় বড় কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনার ইটিপি করার অনুমতি দিতে পারে সরকার, সে জন্য তাদের নীতিগত সহায়তা দেওয়া জরুরি-স্বল্প সুদে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে বড় কারখানাগুলো কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ বহন করতে চাইবে কি না। ব্যক্তিগতভাবে বড় দু-একটি কারখানার সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তারা নিজেরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করলেও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায়ও টাকা দিতে প্রস্তুত।

আবার সিইটিপির মান নিয়েও প্রশ্ন আছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় ইউরোপ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে নিরীক্ষা করানো যায়।

দেশের একটি ট্যানারির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সনদ যে নেই, তা বলাই বাহুল্য। ফলে তাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক বাজার ধরাও সম্ভব হচ্ছে না।

সমস্যা কী, সমাধানই বা কী, তা আমরা সবাই জানি। এখন দরকার হচ্ছে সব অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে কর্মপরিকল্পনা করা এবং তা বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নেতৃত্বে শক্তিশালী চামড়াশিল্প কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন