রাজধানীর বিজয়নগরের শ্রম ভবনে গত ২৮ জুন আরএমজিবিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের সভা হয়। সেই সভায় ঈদের ছুটির আগে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে তৈরি পোশাকসহ সব খাতের শ্রমিকদের বেতন–ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। একই সঙ্গে যদি কোনো শ্রমিকের বেতন–ভাতা বকেয়া থাকে, তা–ও ঈদের ছুটির আগে দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেতন–ভাতা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা দেখছি না। আমাদের ধারণা, ৯০ শতাংশের বেশি কারখানার বেতন–ভাতা পরিশোধ হয়ে গেছে। বাকিরা শুক্র ও শনিবারের মধ্যে দিয়ে দেবে।’

* আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা ও কুমিল্লায় ৯ হাজার ১৭৬টি শিল্পকারখানা রয়েছে। তার মধ্যে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র কারখানা ২ হাজার ৬৮৮টি। * শিল্প পুলিশ বলছে, গতকাল বিকেল পর্যন্ত ৫৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ শিল্পকারখানা জুন মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। আর বোনাস পরিশোধ করেছে ৮৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কারখানা।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জে ১ হাজার ৭০০ শিল্পকারখানা রয়েছে। তার মধ্যে তৈরি পোশাকের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০। গতকাল পর্যন্ত ৯৭ শতাংশ কারখানা বেতন–ভাতা পরিশোধ করেছে। সন্ধ্যার পরও অনেক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন–ভাতা দেওয়া হচ্ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের পরিদর্শক (গোয়েন্দা) বশির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বেতন–ভাতা নিয়ে বড় কোনো সমস্যা নেই।

পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম প্রথম আলোকে বলেন, ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশ কারখানা জুন মাসের বেতন ও শতভাগ কারখানা বোনাস পরিশোধ করেছে। কোনো কারখানার বেতন–ভাতা পরিশোধ নিয়ে সমস্যা হবে না। নির্ধারিত সময়ে কিছু কারখানার বেতন পরিশোধ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সংগঠন থেকে কারখানাগুলোকে ধাপে ধাপে বেতন–ভাতা পরিশোধ করতে নির্দেশনা দিয়েছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে কারখানাভেদে বৈষম্য হচ্ছে। বড় কারখানাগুলো মূল মজুরির (বেসিক) শতভাগ অর্থ দিলেও ছোট ও মাঝারি কারখানা ৫০–৬০ শতাংশের বেশি বোনাস দিচ্ছে না। আবার মাস শুরুর প্রথম সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের বেতন দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই বিধানের অজুহাত দেখিয়েও অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ ঈদের আগে শ্রমিকদের গত মাসের বেতন দিচ্ছে না।

জানতে চাইলে শ্রমিকনেতা সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অধিকাংশ কারখানা বেতন–ভাতা পরিশোধ করেছে। তবে কিছু কারখানা শুক্র ও শনিবার বেতন–ভাতা দিয়ে ছুটি দেবে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন–ভাতা না পাওয়ায় শ্রমিকদের অনেকে বাড়ি যেতে ভোগান্তিতে পড়বেন।

বড় কারখানায় মূল মজুরির সমান ও ছোট–মাঝারি কারখানায় মূল মজুরির অর্ধেক বা তার কম বোনাস দেওয়ার বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, মূলত আইনের ফাঁকফোকরের কারণেই এমন সুযোগ নিচ্ছে কারখানাগুলো। এটি বন্ধ করতে আইনে সুস্পষ্টভাবে মূল মজুরির সমান বোনাস দেওয়ার বিধান যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কারখানাগুলো যেন তা মেনে চলে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে হবে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ]

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন