default-image

ছোট থেকে বড়—সব ব্যবসায় বড় ধরনের ধাক্কা দেয় করোনা। সেই ক্ষতি কাটাতে এখনো হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সর্বনাশের এ বছরটি অনলাইন ব্যবসার জন্য ছিল পৌষ মাস। ২০২০ সাল ছিল অনলাইন ব্যবসার তুমুল গতি ফিরে পাওয়ার বছর।  

করোনার কারণে মার্চে মানুষের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বাজার, দোকান, শপিং মল সব বন্ধ ঘোষণা করা হয় সংক্রমণ ঠেকাতে। তাতে পুরো বাজারব্যবস্থায় যেন হঠাৎ করে অনলাইননির্ভর হয়ে পড়ে। ধুঁকতে থাকা অনলাইন ব্যবসায় করোনা যেন প্রাণ ফিরিয়ে দিল।

ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইক্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল শেষে ই-কমার্সের বাজারের আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকায়, যা গত বছরের দ্বিগুণ। আর করোনার এ বছরজুড়ে প্রতিদিন অনলাইনের মাধ্যমে কেনা প্রায় দেড় লাখ পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাসায় বাসায় সরবরাহ (হোম ডেলিভারি) করা হয়েছে। প্রতিদিনের পণ্য সরবরাহ এ সংখ্যা গত বছরও ছিল সর্বোচ্চ ৪০ হাজার।

বিজ্ঞাপন

করোনার আগে চালডাল আর স্বপ্ন সুপারশপের মতো গুটিকয় প্রতিষ্ঠান অনলাইনে পণ্য বেচাবিক্রির কাজ করলেও করোনার কারণে রাতারাতি গড়ে ওঠে কয়েক শ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। তাদের অনেকে সুনাম কুড়ালেও গ্রাহকেরা প্রতারিতও হয়েছেন। চালডালসহ সুপরিচিত অনলাইন শপগুলোর ব্যবসা হঠাৎ করেই বিশাল হয়ে যায়। যার কারণে শুরুতে পণ্য সরবরাহে হিমশিম খেতে হয়। বাধ্য হয়ে কয়েক হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।

অনলাইন গ্রোসারি শপ চালডালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তাদের নিবন্ধিত ক্রেতা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। গত মার্চ-জুন সময়ে নিবন্ধিত গ্রাহক বেড়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় ৫১ শতাংশ।
জানতে চাইলে চালডালের প্রধান পরিচলন কর্মকর্তা জিয়া আশরাফ বলেন, মার্চে সাধারণ ছুটি শুরুর পর কয়েক দিন আমাদের দৈনিক ক্রয়াদেশ সংখ্যা ১৬ হাজারে পৌঁছে গিয়েছিল। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যা ছিল প্রায় আট গুণ। এখন মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে। এরপরও গত বছরের চেয়ে ক্রয়াদেশ দ্বিগুণ।
একই অবস্থা স্বপ্ন অনলাইনেরও। গত বছরের তুলনায় তাদের ক্রেতা বেড়েছে ১৩০% আর প্রতিদিনের ক্রয়াদেশের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে বেড়ে ৪ গুণ হয়েছে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন