বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বস্ত্রকলমালিকদের সংগঠন বিটিএমএর তথ্যানুযায়ী, করোনা শুরুর বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে তৈরি পোশাকের মাধ্যমে ৯ লাখ ৯৩ হাজার টন সুতা প্রচ্ছন্নভাবে রপ্তানি হয়েছে। গত বছর সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৪৪ হাজার টন। এর মানে সুতার প্রচ্ছন্ন রপ্তানি বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২০ সালে ৬০ কোটি মিটার কাপড় প্রচ্ছন্নভাবে রপ্তানি হয়েছে। গত বছর সেটি ৪০ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৮৪ কোটি ৬৫ লাখ মিটারে উঠেছে।

বিটিএমএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় পাঁচ শ স্পিনিং মিল রয়েছে। আর উইভিং বা কাপড় বোনার কারখানা রয়েছে ৯০০-এর কাছাকাছি। স্পিনিং মিলগুলো নিট কাপড়ের চাহিদার ৮৫-৯০ শতাংশ এবং ওভেন কাপড়ের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করে। সুতা উৎপাদনের জন্য গত ২০২০–২১ অর্থবছরে ৭৬ লাখ বেল তুলা আমদানি করেছে স্পিনিং মিলগুলো।

সাম্প্রতিক সময়ে ছোট আকারের ৩০-৪০টি উইভিং কারখানা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির জন্যও উৎপাদন করছে। আবার করোনাকালে বন্ধ হওয়া ১০-১২টি স্পিনিং মিলও উৎপাদনে ফিরেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিটিএমএর নেতারা।

জানতে চাইলে মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বস্ত্রকলগুলো গত বছর ভালো ব্যবসা করেছে। তবে বর্তমানে তুলার দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেটি অব্যাহত থাকলে ক্রয়াদেশ কিছুটা কমার আশঙ্কা রয়েছে। আবার তুলা আমদানিতে জাহাজসংকটও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চলতি বছর ব্যবসা কেমন হবে, সেটি আরও এক-দুই মাস পর বোঝা যাবে।

বিটিএমএর তথ্যানুযায়ী, সুতার প্রচ্ছন্ন রপ্তানিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে এএ কোরস স্পান। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ৫ কোটি ৭০ লাখ কেজি সুতা রপ্তানি করেছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমএসএ টেক্সটাইলস ৫ কোটি ৫১ লাখ, বাদশা টেক্সটাইলস ৫ কোটি ৪৩ লাখ, স্কয়ার টেক্সটাইলস ৩ কোটি ৩৭ লাখ, এএ ইয়ার্ন মিলস ৩ কোটি ২ লাখ, এমএসএ স্পিনিং ২ কোটি ৯৯ লাখ, ভিয়েলাটেক্স স্পিনিং ২ কোটি ৬০ লাখ, কামাল ইয়ার্ন ২ কোটি ৪৮ লাখ, এএ নিট স্পিন ২ কোটি ৪১ লাখ এবং এনআরজি স্পিনিং মিলস ২ কোটি ৩৬ লাখ কেজি সুতা রপ্তানির সুবাদে শীর্ষ দশে স্থান করে নিয়েছে।

অন্যদিকে নোমান কম্পোজিট টেক্সটাইল কাপড় রপ্তানিতে শীর্ষস্থান দখল করেছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ৯ কোটি ৬৭ লাখ মিটার কাপড় রপ্তানি করেছে। অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে নাইস ডেনিম মিলস ৭ কোটি, হা-মীম ডেনিম ৪ কোটি ৬৩ লাখ, শাশা ডেনিমস ৩ কোটি ৪ লাখ, পাইওনিয়ার ডেনিম ২ কোটি ৮৫ লাখ, স্কয়ার ডেনিমস ২ কোটি ৫২ লাখ, এনভয় টেক্সটাইলস ২ কোটি ৪৫ লাখ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ২ কোটি ২১ লাখ, এন জেড ডেনিম ২ কোটি ১৯ লাখ ও আকিজ টেক্সটাইল মিলস ২ কোটি ১৬ লাখ মিটার কাপড় রপ্তানি করেছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের মধ্যেই বস্ত্র খাতে নতুন বিনিয়োগ আসছে। বিটিএমএ সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রায় ২০টি নতুন বস্ত্রকল স্থাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি স্পিনিং মিল রয়েছে। আবার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ৩০-৪০টি পুরোনো বস্ত্রকল বিনিয়োগ করছে। তাতে আনুমানিক ২৫০ কোটি ডলারের নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে। ফলে আগামী দুই বছরে স্পিনিং খাতের উৎপাদনে ২০ লাখ স্পিন্ডল যোগ হবে।

বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘তৈরি পোশাক রপ্তানির যে গতি, তাতে চলতি বছর সুতা ও কাপড়ের প্রচ্ছন্ন রপ্তানি আরও বাড়বে বলেই আমাদের প্রত্যাশা। কারণ, বন্ধ কিছু বস্ত্রকল চালু হয়েছে। আবার ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দুই–তিন লাখ স্পিন্ডল যুক্ত হবে বিভিন্ন কারখানায়। তাতে সামগ্রিকভাবে আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।’

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন