হুয়াওয়ের মুনাফা বেড়েছে ৭৬ শতাংশ

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যান জুনফ্যাং। আজ রাজধানীর একটি হোটেলেছবি: সংগৃহীত

চীনা তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ে ২০২১ সালে ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৭৬ শতাংশ বেশি। ফলে করোনা ও যুক্তরাষ্ট্রের নানা বিধিনিষেধের মধ্যেও হুয়াওয়ের মুনাফা কমেনি।

হুয়াওয়ে আজ সোমবার তাদের ২০২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ উপলক্ষে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে চীনে হুয়াওয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠান সরাসরি প্রচার করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।

হুয়াওয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার সমান। একই বছর গবেষণা ও পণ্য উন্নয়ন বাবদ প্রতিষ্ঠানটি ব্যয় করেছে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্বের ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। হুয়াওয়ে আরও জানায়, ১০ বছরের বেশি সময়ে তারা গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নের পেছনে সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে।

বৈশ্বিকভাবে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়ানঝৌউ বলেন, ২০২১ সালে তাদের রাজস্ব আয় কমেছে। তবে মুনাফা করার সক্ষমতা ও নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় হুয়াওয়ের সক্ষমতা আরও বেড়েছে।

হুয়াওয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। মার্কিন সাময়িকী ফরচুনের বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৫০০ কোম্পানির তালিকায় হুয়াওয়ের অবস্থান ৪৪তম। এটি বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ব্যবসা করে। হুয়াওয়ে মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তিসেবা দেয়। আবার মুঠোফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন করে। বাংলাদেশে ১৯৯৮ সাল থেকে ব্যবসা করছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের মোবাইল অপারেটর টেলিটক যে পরীক্ষামূলক ফাইভজি সেবা চালু করেছে, তা হুয়াওয়ের প্রযুক্তিতে।

ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যান জুনফ্যাং বলেন, ‘২৩ বছর ধরে হুয়াওয়ে বাংলাদেশে কাজ করছে। এই সময়ে বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে অনেক এগিয়েছে। এই উত্তরণের সক্রিয় অংশীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে যে অমিত সম্ভাবনা, সে ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, স্থানীয়করণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করে যেতে চাই আমরা।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হুয়াওয়ের ‘ক্লাউড সার্ভিস’ সারা বিশ্বে পঞ্চম এবং চীনে তৃতীয় অবস্থান অর্জন করেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল পাওয়ার সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছে হুয়াওয়ে। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ সোলার প্ল্যান্টে হুয়াওয়ের স্মার্ট ফটোভোলটিক সলিউশন ব্যবহার করা হয়েছে। এ বছর বাংলাদেশে এই খাতগুলোর আরও বেশি সহযোগী হয়ে উঠতে চায় হুয়াওয়ে।

বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অনেক বছর ধরে হুয়াওয়ে কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয় অনুষ্ঠানে। জানানো হয়, ২০২১ সালে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ আইসিটি স্কিলস কমপিটিশন’ নামে একটি নতুন কর্মসূচি চালু করে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ।

হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের (বাংলাদেশ) বোর্ড অব ডিরেক্টর জেসন লিজংশেং বলেন, ‘তথ্য–প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে দক্ষ তরুণদের বেশি দরকার হবে। বাংলাদেশের এক দারুণ শক্তি এ দেশের তরুণেরা। আমরা চাই, এ দেশের তরুণেরা বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিক। নিজেদের দক্ষতা, দারুণ সব ধারণা দিয়ে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাক।’

হুয়াওয়ে জানায়, ২০২১ সালে তারা মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তিসেবা (ক্যারিয়ার বিজনেস) থেকে ৩ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে। বিশ্বজুড়ে ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফাইভজি নেটওয়ার্ক স্থাপনে সহায়তা করেছে। হুয়াওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইভজি অ্যাপ্লিকেশনের জন্য তিন হাজারের বেশি বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে।

হুয়াওয়ে আরও বলছে, ৭০০টির বেশি শহর ও ২৬৭টি ‘ফরচুন গ্লোবাল–৫০০’ কোম্পানি তাদের ডিজিটাল রূপান্তর অংশীদার হিসেবে হুয়াওয়েকে বেছে নিয়েছে।

ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের (বাংলাদেশ) চিফ টেকনিক্যাল অফিসার কেভিন স্যু, পাবলিক অ্যাফেয়ারস অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স ডিরেক্টর ইউয়িং কার্ল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।