বিজ্ঞাপন
আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে দুদক। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে দুদক। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, এসবিসির প্রধান কার্যালয়ে অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগের ব্যবস্থাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে একটি চক্র ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব খুলে এসবিসির আয় থেকে ২৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। এসবিসির গত বছরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে আসে। এরপর দুদক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মামলা করে।

২০০৯-১০ সময়ে আবুল কাশেম ছিলেন এসবিসির ঢাকার নিউমার্কেট শাখার ব্যবস্থাপক। তখন থেকেই তিনি জালিয়াতি শুরু করেন। এরপর ১০ বছর ৬ মাস ধরে চলে এ জালিয়াতি।

এসবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯-১০ সময়ে আবুল কাশেম ছিলেন এসবিসির ঢাকার নিউমার্কেট শাখার ব্যবস্থাপক। তখন থেকেই তিনি জালিয়াতি শুরু করেন। এরপর ১০ বছর ৬ মাস ধরে চলে এ জালিয়াতি। তবে এসবিসি প্রধান কার্যালয় জালিয়াতির বিষয়টি টের পায়নি বলে সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেন।

গত বছর এসবিসির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খসরু দস্তগীর আলমের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আবুল কাশেম ২০১০ সালে এসবিসির নামে বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকে একটি ব্যাংক হিসাব খোলেন। এসবিসির অনুমোদন ছাড়া অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগতভাবে ওই ব্যাংক হিসাব খোলেন তিনি। হিসাবটিতে এযাবৎ জমা হয় ২৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

আত্মসাৎ করা টাকা ছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো), বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিভিন্ন প্রকল্পের প্রিমিয়ামের টাকা। এসবিসির সঙ্গে নৌবিমা করার অংশ হিসেবে প্রকল্পগুলো থেকে এ আয় আসে।

আবুল কাশেমের দীর্ঘ ১০ বছরের জালিয়াতির চিত্র আমাদের নিজস্ব তদন্তে উঠে আসে। এরপর বিষয়টি নিয়ে কাজ করে দুদক এবং মামলা করে। সেই মামলার আসামি হিসেবেই গ্রেপ্তার হয়েছেন আবুল কাশেম।
সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসবিসি

আবুল কাশেম ছাড়া আর কে কে এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত, তা নিশ্চিত করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হয়, বিউবো ও বিসিএসআইআরসহ বুয়েটের একাধিক কর্মকর্তা এই জালিয়াতিতে জড়িত।

গত ১৬ মার্চ প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘১০ বছর ধরে জালিয়াতি, ২৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

জানতে চাইলে এসবিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবুল কাশেমের দীর্ঘ ১০ বছরের জালিয়াতির চিত্র আমাদের নিজস্ব তদন্তে উঠে আসে। এরপর বিষয়টি নিয়ে কাজ করে দুদক এবং মামলা করে। সেই মামলার আসামি হিসেবেই গ্রেপ্তার হয়েছেন আবুল কাশেম। তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

বিমা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন