default-image

সূচকের দরপতন অব্যাহত আছে দেশের শেয়ারবাজারে। আজ সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস লেনদেনের প্রথম এক ঘণ্টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৫৯ পয়েন্ট। এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে ১৯৮ কোটি টাকার। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মদ্রে কমেছে ১৯৫ টির দর, বেড়েছে ৪২ টির দর, অপরিবর্তিত আছে ৭২ টির দর। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৪৩ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত দুই দিনের বড় দরপতনে ডিএসইএক্স কমেছে ১৬৬ পয়েন্ট বা ৩ শতাংশ। এর মধ্যে গতকাল এক দিনে ডিএসইএক্স সূচকটি কমে ৮৫ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশের কাছাকাছি। মাত্র ৪৪ কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইতে সূচক সাড়ে ৯ শতাংশ এবং লেনদেন ৭০ শতাংশের কাছাকাছি কমে গেছে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি গতকাল এক দিনে কমেছে ২৬৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

দেশে নতুন করে করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় আবারও আলোচনায় এসেছে লকডাউন। এখন পর্যন্ত এটি শুধু মানুষের মুখের আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু শেয়ারবাজারে এ লকডাউন আতঙ্কে শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে গেছে। সরকার আবারও লকডাউনের পথে হাঁটলে শেয়ারবাজারে লেনদেনও বন্ধ হয়ে যেতে পারে-গত বৃহস্পতিবার থেকে চলছে এমন গুজব। আর তাতে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ও চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে পরপর দুদিন বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

বাজার-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিক থেকে শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল সবচেয়ে বেশি। আর গতকাল তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন ব্যক্তিপর্যায়ের উচ্চ সম্পদশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ। তাতে গতকাল দিনের লেনদেন শুরু হয় দরপতন দিয়ে। একপর্যায়ে ডিএসইএক্স সূচকটি আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০০ পয়েন্টের মতো কমে যায়। যদিও দিন শেষে এ সূচক কমেছে ৮৫ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশের কাছাকাছি।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকালের বাজারে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের বেশি দরপতন ঘটেছে। প্রাতিষ্ঠানিক কিছু বিনিয়োগকারীর বিক্রির চাপে ভালো শেয়ারেরও দরপতন হয়েছে। তার প্রমাণ মেলে ঢাকার বাজারের বাছাই করা ৩০ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচকটি কমেছে প্রায় ২ শতাংশ বা ৩৯ পয়েন্ট। ভালো শেয়ারের পাশাপাশি সব ধরনের শেয়ারেরই দরপতন ঘটেছে। ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেন হওয়া ৩৪৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩৯টি বা ৬৯ শতাংশেরই দাম কমেছে। বেড়েছে কেবল ৩১ টির বা ৯ শতাংশের দাম আর অপরিবর্তিত ছিল ৭৮ টির বা ২২ শতাংশের দাম।

বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, বাজারে গত দুদিন যেভাবে সূচক কমেছে, তা স্বাভাবিক পতন ছিল না। পতনের ধরন দেখেই বোঝা যাচ্ছে আতঙ্কিত হয়ে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করেছেন। এ কারণে সব ধরনের শেয়ারেরই দাম কমেছে, যা অপ্রত্যাশিত। আতঙ্ক কাটলে বাজার আবারও নিজস্ব গতি ফিরে পাবে।

বাজার নিয়ে বিএসইসিতে বৈঠক

এদিকে, দরপতনের কারণ জানতে গতকাল বিকেলে ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও শীর্ষ ১০ ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আগারগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবিদাওয়া তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে রয়েছে ব্রোকারেজ হাউসের নিজস্ব বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফন্ট রানিং কেনাবেচার ক্ষেত্রে আরোপিত বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া, ব্যাংকে রক্ষিত বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত অর্থের বিপরীতে সুদ বিতরণে বিধান প্রত্যাহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে প্রান্তিক ঋণের সুদ হার বেঁধে না দিয়ে বাজারের চাহিদার ওপরই ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

বৈঠকে বিএসইসির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, করোনার মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের লেনদেন চালু থাকলে সে ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারেও লেনদেন অব্যাহত রাখা হবে। বিষয়টি যেন ব্রোকারেজ হাউসগুলোর পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়েও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন