দেশের অর্ধশত বছরের পুরোনো কোম্পানি আবদুল মোনেম লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন মোনেম বলেন, ‘বর্তমানে আমরা ১৩ শতাংশ সুদে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছি। আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বুকস অব অ্যাকাউন্টস বা হিসাবপত্র তৈরি করা একটা বড় সমস্যা। এ ছাড়া কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে বেশি সময় লাগে। এসব কারণে পুরোনো পারিবারিকভাবে পরিচালিত অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ দেখায় না।’ অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী এক বছরের মধ্যে তাঁদের দুটি কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসবে।

দেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মতবিনিময় সভার প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন অভিমত তুলে ধরেন এ দুই শিল্পোদ্যোক্তা। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ার বাড়াতে শিল্পোদ্যোক্তাদের আগ্রহী করে তুলতেই মূলত এই মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ বলেন, ‘আমাদের দেশে শেয়ারবাজার নিয়ে মানুষের মধ্যে একধরনের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। আবার আমাদের শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বেশি। অনেক সময় দেখা যায়, নতুন তালিকাভুক্ত এক কোম্পানির জন্য অন্যসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যায়। ভালো শিল্পোদ্যোক্তাদের কাছে এ ধরনের পরিস্থিতি খুবই অস্বস্তিকর। এ কারণে অনেকে শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ দেখায় না।’

উদ্যোক্তাদের এমন সব অভিযোগের জবাব দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ডিএসইর পরিচালকেরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো দেশে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় জায়গা পুঁজিবাজার। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক উল্টো। উদ্যোক্তারা সবাই ব্যাংকনির্ভর। ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্যাংক খাতে একধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শেয়ারবাজারে কোনো কোম্পানি আসা মানে, ওই কোম্পানির করপোরেট সুশাসনের আওতায় চলে আসা। এতে বড় সুবিধা হচ্ছে, কোম্পানিতে পেশাদারি গড়ে ওঠে।’

অনুষ্ঠানে এক উদ্যোক্তা অভিযোগ করেন, আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় নেওয়া হয়। আবার অনেক বেশি কাগজপত্র লাগে। এসব কারণেও কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে আসতে নিরুৎসাহিত হয়। জবাবে বিএসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আইপিওর জন্য কী ধরনের কাগজপত্র লাগে, তার একটি চেকলিস্ট আছে। তারপরও দেখা যায় অনেক কোম্পানির আইপিও আবেদনে সব কাগজপত্র থাকে না। সব ঠিক থাকলে দুই সপ্তাহের মধ্যে আইপিও অনুমোদন দিয়ে দেব।’

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে ড্যাফোডিল ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সবুর খান বলেন, দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের (আইটি) অনেক কোম্পানি থাকলেও তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা খুবই কম। অতীতে অনেক আইটি কোম্পানিকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাতে এ খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা গেছে।

উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিগুলো কী সুবিধা পাবে, এটিও অনেক শিল্পোদ্যোক্তা জানেন না। এ সময় তিনি শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের লোকসানকে বিমার আওতায় আনা যায় কিনা, তা ভেবে দেখার অনুরোধ জানান। কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আফজাল বলেন, কৃষিভিত্তিক ছোট ছোট কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনতে আইনকানুন সহজ করা দরকার।

ডিএসইর সভাপতি ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, রহিম আফরোজ গ্রুপের পরিচালক মনোয়ার মিসবাহ, ডিএসইর এমডি তারিক আমিন ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজন শিল্পোদ্যোক্তা।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন