বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
শেয়ারবাজারে আইনি সীমার বেশি বিনিয়োগের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংককে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শেয়ারবাজারের আইনি সীমার বেশি বিনিয়োগ করায় বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের দায়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংককে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে আইন লঙ্ঘন করে শেয়ার কেনায় প্রবাসী উদ্যোগে গঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংককে ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও এনআরবি ব্যাংককে ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে আরও জরিমানা করা হয় ইসলামি ধারার এক্সিম ও প্রচলিত ধারার প্রিমিয়ার ব্যাংককেও।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এর সূত্রপাত হয় ওয়ান ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী পরিবর্তনের নির্দেশনা নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক বিবরণী পরিবর্তনের নির্দেশনা দিলেও বিপক্ষে অবস্থান নেয় বিএসইসি। ফলে ব্যাংকটি সময়মতো আর্থিক বিবরণীতে পরিবর্তন আনেনি। এই কারণে ওয়ান ব্যাংককে জরিমানাও করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত বিষয়ে এবারই প্রথম রাষ্ট্রমালিকানাধীন কোনো ব্যাংককে জরিমানা করল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে জানতে কয়েক দফায় মুঠোফোনে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে গত সপ্তাহে এ বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, আইসিবিকে দেওয়া ঋণের মেয়াদ পূর্তি হয়েছিল। এখন আবার নতুন করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এখানে শেয়ারবাজারে সরাসরি কোনো বিনিয়োগ করা হয়নি।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী শেয়ারবাজারে কোনো ব্যাংকের বিনিয়োগ ওই ব্যাংকের আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন আর্নিংসের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। কিন্তু আইসিবিকে টাকা দেওয়ায় সোনালী ব্যাংকের বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৬০ শতাংশে। এই আইন পরিপালনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৩ সালে যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেখানে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজার কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়োজিত অপর কোনো কোম্পানি বা স্টক ডিলারকে দেওয়া ঋণের স্থিতি, মঞ্জুরিকৃঋণসীমা ও তাদের সঙ্গে রক্ষিত তহবিলের স্থিতি ২৫ শতাংশের হিসাবের মধ্যে পড়বে।

২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে ধরা পড়ে, আইসিবিসহ শেয়ারবাজারে সোনালী ব্যাংক যে বিনিয়োগ করেছে, তা ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে বিনিয়োগ ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময়ে আইসিবিতে সোনালী ব্যাংকের বিনিয়োগ ছিল দেড় হাজার কোটি টাকা। আইসিবিকে দেওয়া দেড় হাজার কোটি টাকার মধ্যে গত ২৬ আগস্ট ৫০০ কোটি টাকার মেয়াদ পূর্তি হয়। আইসিবি সুদসহ টাকা সোনালী ব্যাংককে ফেরত দেয়। এরপর গত ১৭ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের কাছে আবারও ৫০০ কোটি টাকা ঋণ চেয়ে আবেদন করে আইসিবি।

সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় উত্থাপিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, আইসিবিতে ৭২৫ কোটি টাকার সীমাতিরিক্ত বিনিয়োগ আছে। প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান বিনিয়োগযোগ্য নয়। তবে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪৯৪তম সভায় সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঋণমানের শর্ত শিথিল করা হয়। তাতে সীমাতিরিক্ত বিনিয়োগ থাকার পরও আইসিবিকে ৩৬০ দিন মেয়াদে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যার সুদের হার ঠিক হয় সাড়ে ৭ শতাংশ। পর্ষদে অনুমোদনের পর আইসিবিকে চলতি মাসে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেয় সোনালী ব্যাংক।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন