বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের হোটেল দুটি করোনার ক্ষতি কাটিয়ে প্রায় স্বাভাবিক সময়ের মতো ব্যবসায় ফিরেছে। সেই তুলনায় ঢাকার হোটেল দুটি বেশ পিছিয়ে আছে। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঢাকার তারকা হোটেলগুলোর ব্যবসা মূলত বিদেশি অতিথি ও বড় বড় অনুষ্ঠাননির্ভর। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের তারকা হোটেলের ব্যবসা স্থানীয় অতিথিনির্ভর। সেজন্য তাদের ব্যবসা ভালো হচ্ছে।

বিদেশি–নির্ভরতায় ব্যবসা কম

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল আয় করেছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। খাবার বিক্রির পাশাপাশি রুম ও হল ভাড়া দিয়ে এ আয় করেছে হোটেলটি। আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরে হোটেলটি আয় করেছিল ৯৮ কোটি টাকা। এ দুই অর্থবছরেই করোনার কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনা শুরুর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হোটেলটির আয় হয়েছিল ৭১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে করোনা আক্রান্ত সর্বশেষ অর্থবছরেও স্বাভাবিক সময়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবসা পুনরুদ্ধার করেছে হোটেলটি।

জানতে চাইলে হোটেলটির বিপণন ও বিজনেস বিভাগের পরিচালক সাহিদুস সাদিক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের হোটেলের ৯৫ শতাংশ ব্যবসাই ছিল বিদেশি অতিথিনির্ভর। করোনার কারণে গত দুই বছর তেমন কোনো বিদেশি অতিথি ছিল না। ফলে আমাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আমরা গত দুই বছর দেশি অতিথিদের বাজার ধরার চেষ্টা করেছি। তাতে আমাদের রুম ভাড়া প্রায় অর্ধেক কমাতে হয়েছে।

বিদেশি অতিথি ও বড় বড় ইভেন্ট–নির্ভর হওয়ায় ঢাকার আরেক পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনও এখনো স্বাভাবিক ব্যবসায় ফিরতে পারেনি। ২০২০-২১ অর্থবছরে হোটেলটি তার মূল ব্যবসা থেকে আয় করেছে প্রায় ৬১ কোটি টাকা, যা আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১৫০ কোটি টাকার চেয়ে ৮৯ কোটি টাকা কম। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রুম ভাড়া বাবদ এই হোটেলের আয় হয়েছিল ৬২ কোটি টাকার বেশি, যা গত অর্থবছরে কমে মাত্র সাড়ে ১৬ কোটি টাকায় নেমে আসে। করোনার আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের স্বাভাবিক সময়ে শুধু রুম ভাড়া বাবদ হোটেলটি আয় করেছিল ৯১ কোটি টাকা। আর ওই বছর খাবার বিক্রি করেছিল ১০৬ কোটি টাকার। সব মিলিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওয়েস্টিন হোটেল ২১০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। সেই হিসাবে হোটেলটির সর্বশেষ অর্থবছরে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশের মতো আয় হয়েছে।

জানতে চাইলে ওয়েস্টিন হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুর আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর মানুষের বেড়ানোর প্রতি আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। এ কারণে বিভিন্ন পর্যটন এলাকার রিসোর্ট ও হোটেলগুলো ভালো ব্যবসা করেছে। আবার বিদেশি অতিথি কম থাকায় ব্যবসা ধরতে আমাদের ভাড়া কমিয়ে দেশীয় অতিথিমুখী হতে হয়েছে। এ কারণেও আয় কম হয়েছে।’

দেশি অতিথিসেবায় ব্যবসা চাঙা

অন্যদিকে দেশি পর্যটকনির্ভর হওয়ায় করোনার মধ্যেও খুব ভালো ব্যবসা করেছে কক্সবাজারের রয়্যাল টিউলিপ হোটেল। করোনার আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্বাভাবিক সময়ে হোটেলটি ৫১ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল, যা করোনার মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ৬৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ করোনাকালেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি ব্যবসা করেছে রয়্যাল টিউলিপ।

চট্টগ্রামের চার তারকা মানের হোটেল পেনিনসুলাও স্বাভাবিক সময়ের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবসা ফিরে পেয়েছে। করোনার আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হোটেলটির মূল ব্যবসা থেকে আয় হয়েছিল ৩১ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যা করোনাকালের ২০২০-২১ অর্থবছরে দাঁড়ায় সাড়ে ২৫ কোটি টাকা। রুম ভাড়া বাবদ আয় কমলেও খাবার বিক্রি থেকে আয় স্বাভাবিক সময়ের মতোই ছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হোটেলটি খাবার বিক্রি করে ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং রুম ভাড়া বাবদ সোয়া ১৫ কোটি টাকা আয় করেছিল। সেখানে গত অর্থবছরে এই দুটি আয় দাঁড়ায় যথাক্রমে ১৪ কোটি টাকা ও ১১ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চারটি তারকা হোটেলের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সর্বশেষ অর্থবছরে হোটেলগুলো খাবার বিক্রিতে আগের বছরের প্রায় ৬৫ শতাংশ ব্যবসা পুনরুদ্ধার করেছে। যেমন চার হোটেল মিলে ২০২০-২১ অর্থবছরে আয় করে ১১১ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ১৭১ কোটি টাকা। করোনার কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ ৩ মাস (২৬ মার্চ থেকে শুরু) সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় এসব হোটেল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। বাকি ৯ মাস স্বাভাবিক ব্যবসা করেছিল হোটেলগুলো। ২০২০-২১ অর্থবছরেও করোনার কারণে একাধিকবার হোটেল ও পর্যটন ব্যবসায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। ফলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফাঁকে ফাঁকে হোটেলগুলোকে ব্যবসা করতে হয়েছে।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন