বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কমোডিটি এক্সচেঞ্জের বিষয়ে সিএসই যে ধারণাপত্রটি জমা দিয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালের ১৬ এপ্রিল সরকারের পক্ষ থেকে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকারি এ উদ্যোগ গতি হারায়। ফলে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আলোচনা থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু সিএসই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বেশ আগ্রহী। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের আগস্টে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে চিঠি দেয় সিএসইর তৎকালীন সভাপতি। অর্থ মন্ত্রণালয় ওই চিঠি বিএসইসিতে পাঠায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে। এরপর বিএসইসি ও সিএসইর মধ্য এ নিয়ে বেশ কয়েক দফা চিঠি চালাচালি চললেও একপর্যায়ে বিষয়টি আলোচনার টেবিলের বাইরে চলে যায়।
সম্প্রতি সিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে এক বৈঠকে বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংস্থাটি উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে ধারণাপত্র তৈরি ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন। তারই অংশ হিসেবে গত আগস্টে সিএসইর পর্ষদে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও এ জন্য অনুমোদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য অভ্যন্তরীণ একটি কমিটিও গঠন করা হয়।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় কী ধরনের পণ্য নিয়ে এ ধরনের এক্সচেঞ্জ চালু করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে পরামর্শক নিয়োগ করা হবে।
মো. গোলাম ফারুক, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিএসই

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ভারতে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জের (এমসিএক্স) সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে সিএসই। এমনকি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এমসিএক্সকে পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। এ অবস্থায় পরামর্শক নিয়োগের আগে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজনীয় দেখা দেয়। সে জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। এ জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কমোডিটি পণ্যের মান নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণ, পণ্যাগার বা ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠা ও তার জন্য নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার কাঠামোগত চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করা।

জানতে চাইলে সিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ায় এখন আমরা এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু করব। বাংলাদেশের বাস্তবতায় কী ধরনের পণ্য নিয়ে এ ধরনের এক্সচেঞ্জ চালু করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব পরামর্শ দেবে।’ ভারতের এমসিএক্সের সঙ্গে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিষয়ে আলোচনা হলেও প্রতিষ্ঠানটিকে পরামর্শক নিয়োগের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ অনুযায়ী, কৃষিপণ্য, গবাদিপশু, মাছ, বনজ সম্পদ, খনিজ ও জ্বালানি পণ্যসহ উৎপাদিত যেকোনো পণ্য কমোডিটি এক্সচেঞ্জের আওতায় কেনাবেচা করা যাবে। এসব পণ্য কেনাবেচা বা লেনদেনের উদ্দেশে যে এক্সচেঞ্জ বা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, সেটিই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ নামে পরিচিত হবে।

জানা গেছে, সিএসইর পক্ষ থেকে পাট, তুলা, স্বর্ণ, আলু, পেঁয়াজ, চা ইত্যাদি পণ্যের মধ্য থেকে এক বা একাধিক পণ্য কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কেনাবেচার করা যায় কি না, তার সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিষয়ে ভারতের প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সম্মতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এখন সংস্থাটিকে এ-সংক্রান্ত প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করে চূড়ান্ত প্রস্তাব কমিশনে দিতে হবে। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।
এদিকে ২০০৭ সালে সরকারি পর্যায়ে আলোচনার পর ২০০৮ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিএসইসিতে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার আবেদন করেছিলেন সিএসইর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রয়াত ওয়ালিউল মারুফ মতিন। এ জন্য তিনি কমোডিটি অ্যান্ড ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (সিডিএক্স) নামের একটি কোম্পানিও করেছিলেন। কিন্তু অনুমোদন না পাওয়ায় মৃত্যুর আগে তিনি এ-সংক্রান্ত কোনো কাজ করতে পারেননি।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কী

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা হয়ে থাকে। সেই কেনাবেচাটা হয় কাগুজে বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে। মূল পণ্যটি কোনো গুদামে বা মাঠে থাকে। সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর এটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা হস্তান্তর হয়।

ধরা যাক, কমোডিটি এক্সচেঞ্জে আলু কেনাবেচা হলো। সরাসরি কৃষক বা হিমাগারের মালিক, যাঁর মালিকানায় পণ্যটি রয়েছে তিনি এই আলু বিক্রি করতে পারবেন। আর কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে যে কেউ এই আলু কিনতে পারবেন। আইনের মাধ্যমে এই আলু কেনাবেচার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত একটি সময় বেঁধে দেওয়া হবে। ওই সময় ক্রয়াদেশটি যাঁর হাতে থাকবে, তাঁকে বিক্রীত ওই আলু বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন