করোনার বছরে রেকর্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার। ২০২০ সালের জন্য কোম্পানিটি তার শেয়ারধারীদের জন্য ১৪০০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ। অর্থাৎ কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে একজন বিনিয়োগকারী লভ্যাংশ পাবেন ১৪০ টাকা করে। আজ বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা থেকে গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত আর্থিক বছরের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।
শেয়ারবাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত এটিই শেয়ারবাজারে একক কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা এক বছরের জন্য সর্বোচ্চ লভ্যাংশ। এর আগে শেয়ারবাজারের কোনো কোম্পানি এত লভ্যাংশ দিয়েছে কি না, তা বর্তমান বাজারের সঙ্গে যুক্ত কেউ বলতে পারছেন না।

বিজ্ঞাপন
গত ৩৩ বছরে শেয়ারবাজারের কোনো কোম্পানি এত লভ্যাংশ দিয়েছে বলে আমার স্মরণে নেই। শেয়ারবাজারের কোম্পানিগুলো এ রকম ভালো লভ্যাংশ দিলে বাজার ঠিক করতে প্রণোদনা বা অন্য কিছুর প্রয়োজন হয় না।
শাকিল রিজভী, পরিচালক, ডিএসই

১৯৮৮ সাল থেকে শেয়ারবাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন শাকিল রিজভী। সেই হিসাবে শেয়ারবাজারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ৩৩ বছরের। বর্তমানে তিনি দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক। জানতে চাইলে শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ৩৩ বছরে শেয়ারবাজারের কোনো কোম্পানি এত লভ্যাংশ দিয়েছে বলে আমার স্মরণে নেই। শেয়ারবাজারের কোম্পানিগুলো এ রকম ভালো লভ্যাংশ দিলে বাজার ঠিক করতে প্রণোদনা বা অন্য কিছুর প্রয়োজন হয় না। ভালো কোম্পানি ও ভালো লভ্যাংশ শেয়ারবাজারকে এমনিতেই গতিশীল করতে পারে।’

বহুজাতিক এ কোম্পানিটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। প্রতিদিন এ কোম্পানির ২ কোটির বেশি পণ্য বিক্রি হয়। বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশে এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে।

করোনার বছরে ভালো ব্যবসা করেছে রেকিট বেনকিজার। যার কারণে বছর শেষে এটি শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেড়ে হয়েছে ১৫৬ টাকা ৩৮ পয়সা। আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ১৩১ টাকা। সেই হিসাবে, ২০১৯ সালের স্বাভাবিক একটি বছরের চেয়ে গত বছর কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে প্রায় ২৫ টাকা। ভাবছেন করোনার বছরে কীভাবে এত ব্যবসা করল কোম্পানিটি? তাহলে চলুন জেনে নিই বাজারে কোম্পানিটির কী কী পণ্য রয়েছে। করোনার বছরে ঘরে ঘরে কমবেশি সবাই নিশ্চয় ডেটলের ব্যবহার বাড়িয়েছেন। আবার ঘর পরিষ্কারে লাইজলের ব্যবহারও নিশ্চয় বেড়েছে ঘরে ঘরে। আবার মশার উৎপাত থেকে বাঁচতে গ্রামগঞ্জে ও শহরে ‘মরটিন’ কয়েল ব্যবহার করেন অনেকে। আর এ ধরনের বহুল পরিচিত অনেক পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকারী এ কোম্পানি।

বিজ্ঞাপন
গত মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৫৪ জনের হাতে। এর মধ্যে মূল মালিকদের কাছেই রয়েছে ৮৩ শতাংশ শেয়ার।

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বর্তমানে সবচেয়ে দামি শেয়ার রেকিট বেনকিজারের। ডিএসইতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস আজ বৃহস্পতিবার দিন শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৪ হাজার ৬১৪ টাকা। শেয়ারবাজারের সবচেয়ে দামি শেয়ারটি শেয়ারধারীদের জন্য রেকর্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করল। ২০১৯ সালেও কোম্পানিটি ১ হাজার ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। তবে কোম্পানিটির গত মার্চের শেয়ারধারণ–সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এটির শেয়ার রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৫৪ জনের হাতে। এর মধ্যে মূল মালিকদের কাছেই রয়েছে ৮৩ শতাংশ শেয়ার।

ইংল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক এ কোম্পানিটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। ১৮২৩ সালে জার্মানিতে শিল্পের রাসায়নিক ব্যবসা দিয়ে বেনকিজারের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশে এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। বিশ্বজুড়ে কোম্পানিটির কর্মীর সংখ্যা ৪৩ হাজারের বেশি। প্রতিদিন এ কোম্পানিটির ২ কোটির বেশি পণ্য বিক্রি হয়।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন