default-image

রাজধানীর গুলশান শপিং সেন্টারে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০টি বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় (মানি চেঞ্জার) প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে দেখা গেল, মাত্র তিনজন বিদেশি ও দুজন বাংলাদেশি মুদ্রা বিনিময়ের জন্য এসেছেন। এর মধ্যে দেশি একজন খোঁজখবর নিয়েই চলে গেলেন। অন্যজন দেড় শ ডলার বিক্রি করলেন। আর বিদেশি তিনজন কিনলেন থাই বাথ। এই সময়ে সব মিলিয়ে তিনটি মানি চেঞ্জারে ক্রেতা-বিক্রেতারা এসেছেন। অন্যরা গ্রাহকের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন তীর্থের কাকের মতো। ক্রেতা-বিক্রেতা না আসায় কোনো কোনো মানি চেঞ্জারে কর্মীর দেখাও মেলেনি। নিয়ম রক্ষার্থে দোকানের তালা খুলেই কর্মীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন অন্যত্র।

বিদেশে যাওয়া ও আসা দুটোই চলছে সীমিত আকারে। ফলে ব্যবসা বলতে গেলে নেই। তাই দেশের মানি চেঞ্জারগুলো পড়েছে সংকটে।

করোনাভাইরাসের কারণে মার্চ থেকে আকাশ ও স্থলপথে বিদেশ যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জুন থেকে সীমিত পর্যায়ে আকাশপথে যোগাযোগ শুরু হলেও বিদেশি পর্যটন বলতে এখনো তেমন কিছু নেই। নিতান্ত বাধ্য না হলে কেউ এখন ঘুরতে বিদেশ যাচ্ছেন না। আর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়াও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিদেশিরাও খুব একটা আসছেন না। ফলে দেশের সব মানি চেঞ্জারের ব্যবসা বলতে গেলে একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে অনেকে তাই বিমান টিকিট, পুরোনো নোট ও পয়সা, পুরোনো ডাকটিকিট বিক্রিসহ অন্যান্য ব্যবসায় নেমেছেন। গুলশানের পাশাপাশি মতিঝিলের মানি চেঞ্জারগুলো ঘুরেও এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন
জানা যায়, ১৯৯৭ সাল থেকে দেশে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন দেওয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের পাশাপাশি পাসপোর্ট এনডোর্সও করতে পারে। একসময় দেশে ৬৩৬টি মানি চেঞ্জার নিবন্ধন নিয়ে ব্যবসা করত।

মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে দুই পক্ষের মতবিরোধে। সবশেষ সভাপতি ছিলেন মোস্তফা খান। পল্টনে নিজের এক্সচেঞ্জ হাউসে বসে সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে কথা হয়। ব্যবসার অবস্থা জানতে চাইলে মোস্তফা খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিছু অবৈধ মানি চেঞ্জারের কারণে করোনার আগে থেকেই আমরা খারাপ অবস্থায় ছিলাম। করোনা এসে ব্যবসার পুরোটা শেষ করে দিয়েছে। কেউ সব কর্মীকে বাদ দিয়ে কোনোমতে প্রতিষ্ঠান চালু রাখার চেষ্টা করছেন। আবার কেউবা অন্য ব্যবসায় ঝুঁকছেন। আমিও এখন মুদ্রা সংগ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করছি। সরকার এত প্রণোদনা দিল, কিন্তু আমাদের জন্য কিছু দেয়নি। অথচ পর্যটন, চিকিৎসা, বিদেশে যাতায়াতে আমাদের বড় ভূমিকা আছে।’

জানা যায়, ১৯৯৭ সাল থেকে দেশে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন দেওয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের পাশাপাশি পাসপোর্ট এনডোর্সও করতে পারে। একসময় দেশে ৬৩৬টি মানি চেঞ্জার নিবন্ধন নিয়ে ব্যবসা করত। তবে নিবন্ধনের শর্ত না মানায় অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে দেশে ২৩৪টি মানি চেঞ্জার নিবন্ধন নিয়ে ব্যবসা করছে। নিবন্ধন টিকিয়ে রাখতে বছরে ৫ লাখ ডলারের সমপরিমাণ মুদ্রা কেনাবেচা করতে হয় মানি চেঞ্জারদের।

করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই শর্তে ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মুদ্রা লেনদেন না করলেও চলতি বছরে লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে।

তবে করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই শর্তে ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মুদ্রা লেনদেন না করলেও চলতি বছরে লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে।
রাজধানীর গুলশান শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় আইডিয়া, হাবিব, হক, সাব, এসএইচসহ বেশ কয়েকটি মানি চেঞ্জার রয়েছে। হাবিব মানি চেঞ্জারের কর্মী মাহমুদ হাসান ও হাসিবুর রহমান জানান, এমন দিন গেছে, সারা দিনেও কেউ আসেনি। আবার এলেও খবর নিয়ে চলে যায়।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রাহক না থাকায় প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সবাই যেন অবসর সময় কাটাচ্ছেন। অবসরের সময় এত দীর্ঘ হয়ে গেছে যে বৈশ্বিক যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ব্যবসার আশাও করছেন না। আর ব্যবসা নেই, এ কারণে মুদ্রার দাম কমে যাবে সেটা হয়নি। গতকাল প্রতি ডলার ক্রয়মূল্য ছিল ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ছিল ৮৬ টাকা। আর ভারতীয় রুপির ক্রয়মূল্য ছিল ১ টাকা ১৫ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ছিল ১ টাকা ১৮ পয়সা।

গুলশানের এসএইচ মানি এক্সচেঞ্জের কর্ণধার শহিদুল্লাহ ভূঁইয়া গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘২২ বছর ধরে ব্যবসা করছি। এবারের মতো সংকটে আগে কখনো পড়তে হয়নি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0