রাজধানীর খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নির্মাণাধীন ভবনের কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির শেয়ারধারীরা। ভবনটি নির্মাণে সম্ভাব্য যে ব্যয় ধরা হয়েছিল, এরই মধ্যে তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ খরচ হলেও ভবনটি এখনো পুরোপুরি ব্যবহারের উপযোগী হয়নি। প্রতিবছরই ভবনটি বাবদ খরচ বাড়ছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে গত বুধবার ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) একাধিক সদস্য বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানান। তাঁরা অবিলম্বে ভবনটির কাজ সম্পন্ন করার জন্য বর্তমান পর্ষদের কাছে দাবি জানান।
স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা করা বা ডিমিউচুয়ালাইজেশনের আগে ডিএসইর সদস্যরা নামমাত্র মূল্যে ভবনটি নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারার উদ্যোগ নেন। এমনকি সদস্যদের নামের বিপরীতে বরাদ্দপত্রও দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) হস্তক্ষেপে এ ভাগ-বাঁটোয়ারার উদ্যোগ ভেস্তে যায়। সে সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, ডিমিউচুয়ালাইজেশন-পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ভবনটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
কিন্তু গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ডিমিউচুয়ালাইজেশন-পরবর্তী ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ দায়িত্ব নিলেও ভবনটির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ২০০৭ সালে এ ভবনটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ। যদিও উদ্বোধনের আগেই এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। তখন এটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩২ কোটি টাকা।
এদিকে গত বুধবারের এজিএমে সদস্যদের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত ভবনটির ৫২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর তাতেই প্রায় ১৬০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে।
ডিএসইর শেয়ারধারী সদস্যরা জানান, ভবনটির জন্য যেসব আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে, সেগুলোর বিক্রয়োত্তর সেবার (ওয়ারেন্টি) মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও সেসব যন্ত্রপাতির অনেক কিছুই এখনো স্থাপন করা হয়নি।
এ ছাড়া ডিমিউচুয়ালাইজেশন-পরবর্তী সময়ে ডিএসইর ব্যবসা প্রসারে কোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এটির শেয়ারধারীরা। তাঁদের মতে, ডিএসইর প্রধান আয়ের উৎস হচ্ছে স্থায়ী আমানতের সুদ। এই অবস্থায় ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করেন শেয়ারধারীরা।
এ ছাড়া ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর কৌশলগত ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির জন্য ব্লক হিসাবে সংরক্ষিত রাখা শেয়ারধারীদের ৬০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।
ডিএসইর সভাপতি বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সভায় পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য ও শেয়ারধারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন