বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জের চলমান কার্যক্রম, আচরণবিধি, নীতিনৈতিকতার চর্চা ইত্যাদি ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই হবে বিশেষ নিরীক্ষকের কাজ।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. গোলাম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএসইসির চিঠি পেয়েছি। আমাদের পরিচালনা পর্ষদের আগামী সভাতেই এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএসইসির পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পরিপালনে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

এদিকে ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের ৯.২.৩ ধারায় স্টক এক্সচেঞ্জ দুটির জন্য যেসব বিষয় বা লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল, সেগুলোর কতটা অর্জিত হয়েছে, সে ব্যাপারেও কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ডিএসইর ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম সম্পর্কে ওই ধারায় বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন উন্নীত হবে আড়াই হাজার কোটি টাকায়। একই বছরের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ বাজার মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা দ্বিগুণ করা। সেই সঙ্গে দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ২০২০ সালের মধ্যে বাজারের মোট বিনিয়োগের ন্যূনতম তিন-চতুর্থাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ছিল। একইভাবে সিএসইর ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমেও প্রতিষ্ঠানটির জন্য কিছু লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ডিএসই ও সিএসই অধিকাংশ লক্ষ্যই পূরণ করতে পারেনি।

এদিকে ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর প্রায় আট বছর অতিবাহিত হলেও কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে এখনো কোনো শেয়ার বিক্রি করতে পারেনি সিএসই। তাই কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার বিক্রির বিষয়ে সংস্থাটির কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট টাইমলাইন বা সময়সীমা জানতে চেয়েছে বিএসইসি। এ ছাড়া সরকারি সিকিউরিটিজ ও নানা ধরনের ঋণ পণ্য লেনদেনের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী, দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানাসংক্রান্ত মোট শেয়ার প্রতিষ্ঠান দুটির সদস্যদের মধ্যে সমভাবে বণ্টন করা হয়। সদস্যদের জন্য ৪০ শতাংশ শেয়ার সংরক্ষিত। বাকি ৬০ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ২৫ শতাংশ কৌশলগত বিনিয়োগকারী ও ৩৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত। ডিএসই কৌশলগত বিনিয়োগকারীর জন্য নির্ধারিত ২৫ শতাংশ শেয়ার এরই মধ্যে চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত জোটের কাছে বিক্রি করেছে। এখন ডিএসইর হাতে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির জন্য ৩৫ শতাংশ শেয়ার সংরক্ষিত রয়েছে। আর সিএসইর হাতে ৬০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির জন্য পড়ে আছে।

এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ৩৫ শতাংশ করে শেয়ারবাজারে আনার বিষয়ে সংস্থা দুটির সঙ্গে বৈঠক করে বিএসইসি। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে পথনকশা চেয়েছে বিএসইসি।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন