বেসরকারি খাতের ‘তহবিল জোগানদাতা’ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নিয়ম করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল সোমবার বিএসইসির কমিশন সভায় ‘বিকল্প বিনিয়োগ নিয়ম বা অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট রুলস, ২০১৫’ নামের নতুন এ বিধান অনুমোদন করা হয়। সভা শেষে বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, জনমত জরিপ শেষে নতুন এই বিধি অনুমোদন করা হয়েছে। শিগগিরই তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যারা বিভিন্নভাবে তহবিল সংগ্রহ করে পরবর্তীকালে তা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় কিন্তু সম্ভাবনাময় কোম্পানির শেয়ারে (ইক্যুইটি) ও ঝুঁকিপূর্ণ মূলধন (ভেঞ্চার ক্যাপিটাল) হিসেবে বিনিয়োগ করছে। তার বিপরীতে ওই কোম্পানির নীতি প্রণয়নসহ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ‘তহবিল জোগানদাতা’ প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে গেলে তাতে উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসার খরচ বেড়ে যায় বা বাড়তি চাপ তৈরি হয়। আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠার আগে ওই সব উদ্যোক্তা বা কোম্পানির পক্ষে শেয়ারবাজার থেকেও অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অনেক উদ্যোক্তাই এখন সুদবিহীন মূলধন সংগ্রহের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। আর এ ধরনের আগ্রহের ফলে দেশে ‘তহবিল জোগানদাতা’ প্রতিষ্ঠানেরও চাহিদা বাড়ছে। তাই এ ধরনের দেশীয় ‘তহবিল জোগানদাতা’ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে নতুন বিধি করেছে বিএসইসি।
এ ছাড়া, আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোরিয়ান মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেছে বিএসইসি। বিএসইসির গতকালের সভায় কোম্পানিটিকে আইন ভঙ্গের জন্য সতর্কপত্র দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএসইসি জানিয়েছে, ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান ‘করমপ কোম্পানি’ অনুমোদন ছাড়া কয়েক দফায় কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বাড়িয়েছে। এর বাইরে পুঁজি উত্তোলন-সংক্রান্ত প্রস্তাবে মিথ্যা প্রতিবেদনও দিয়েছে কোম্পানিটি। ওই প্রতিবেদনে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার পরিবর্তে ৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা দেখানো হয়।
বিএসইসি বলছে, করমপ কোম্পানিটির এ ধরনের কর্মকাণ্ড সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন। তাই এটিকে প্রথম দফায় সতর্ক করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো প্রাইভেট কোম্পানি যাদের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকার বেশি, ওই সব কোম্পানির মূলধন বাড়াতে হলে বিএসইসির অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। একইভাবে এক কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধনের পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির বেলায়ও এ ধরনের বিধান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন