default-image

শেয়ারবাজারে জিলবাংলা সুগার মিলসের শেয়ার নিয়ে এক ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ কারণে ব্রোকারেজ হাউসটির ডিলার হিসাব ও একই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবে থাকা জিলবাংলার বিপুল শেয়ারের লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম দুটি বিও হিসাবে থাকা জিলবাংলার শেয়ার লেনদেনের স্থগিতাদেশের সতত্য নিশ্চিত করেন।
কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণের পরপরই বাজারে জিলবাংলার লেনদেনের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়। এর ফলে গতকাল রোববার থেকে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আবারও কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হয়েছে। ‘জেড’ শ্রেণির এ কোম্পানি গত জুনে সমাপ্ত আর্থিক বছরের জন্যও কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মন্তব্য করেছে, সরকার সহায়তা না দিলে কার্যক্রম পরিচালনার মতো আর্থিক সক্ষমতা নেই কোম্পানিটির।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস ইউনিরয়েল সিকিউরিটিজের নামে থাকা ডিলার হিসাব ও তাঁর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অনির্বাণ দাশগুপ্তের বিও হিসাবে জিলবাংলার প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ার কেনা হয়।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস ইউনিরয়েল সিকিউরিটিজের নামে থাকা ডিলার হিসাব ও তাঁর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অনির্বাণ দাশগুপ্তের বিও হিসাবে জিলবাংলার প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ার কেনা হয়। একই ব্যক্তি ও তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিও হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনে নেওয়ার ফলে বাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

এর ফলে পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। মাত্র দুই মাসে শেয়ারের দাম বাড়ে ৫৬৬ শতাংশ বা ১৮১ টাকা। এ কারণে গত ১৫ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির লেনদেন স্থগিত করা হয়। এরপর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে ডিএসইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ডিএসইর তদন্তে ইউনিরয়েল সিকিউরিটিজের ডিলার হিসাব ও তার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিজ নামের বিও হিসাবে বিপুল শেয়ারের সন্ধান মেলে। সেখানে দেখা যায়, ডিলার হিসাব থেকে কোম্পানিটির প্রায় ১০ শতাংশ এবং এমডির হিসাব থেকে প্রায় ২ শতাংশের মতো শেয়ার কেনা হয়েছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়। ওই তদন্তের পর বিএসইসির পক্ষ থেকে ইউনিরয়েল সিকিউরিটিজ ও তার এমডির কাছে জিলবাংলার বিপুল শেয়ার কেনার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ কারণে ইউনিরয়েল সিকিউরিটিজ ও তার এমডির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তা বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে ইউনিরয়েল সিকিউরিটিজের এমডি অনির্বাণ দাশগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

কারসাজির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আগ পর্যন্ত ইউনিরয়েল ও তার এমডির হিসাবে থাকা জিলবাংলার শেয়ার লেনদেন বন্ধ (ফ্রিজ বা জব্দ) রাখতে বিএসইসির পক্ষ থেকে সিডিবিএলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শেয়ারবাজারে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শেয়ার ধারণ ও বিও হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড বা সিডিবিএল। বিও হিসাব জব্দের কাজটি এ প্রতিষ্ঠানই কার্যকর করে থাকে।

গত ৯ জুলাই ডিএসইতে জিলবাংলার শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ৩২ টাকা। এরপর থেকে একটানা উত্থানে প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেটির দাম ওঠে ২১৩ টাকায়। এরপরই কোম্পানিটির লেনদেন স্থগিত করা হয়। এদিকে দেড় মাসের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর গতকাল লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে জিলবাংলার শেয়ারের দাম এক দিনেই ১৮ শতাংশ বা ৩৮ টাকা কমে নেমে এসেছে ১৭৬ টাকায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0