বিএসইসি জানায়, আইসিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগসীমা উন্মুক্ত করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে বিএসইসি পুনর্গঠনের পর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে আইসিবির বিনিয়োগের সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। ফলে তখন থেকে আইসিবি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনতে পারছিল না। এখন ৩০ কোম্পানির ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা উঠে গেল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল থেকে সম্প্রতি আইসিবিকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বিনিয়োগের জন্য। মূলত ঋণ হিসেবেই এই অর্থ দেওয়া হয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটিকে। কিন্তু নির্ধারিত সীমা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে সেই অর্থ ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়ে আইসিবি।

জানতে চাইলে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেন গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বাজারে নতুন করে ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করতে চাই। কিন্তু বিনিয়োগ করতে গিয়ে দেখা যায় নির্ধারিত সীমার কারণে সেটি পারছিলাম না। কারণ, ভালো মৌলভিত্তির বেশির ভাগ কোম্পানির ৫ শতাংশের কাছাকাছি শেয়ার আমাদের হাতে রয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগের সীমা তুলে নেওয়ার জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করি। বিএসইসি আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছে।

এর ফলে আমরা আশা করছি, ভালো কোম্পানিতে আইসিবির বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং তা বাজারে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।’

সাম্প্রতিককালে শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির উদ্বেগ বাড়ে। বাজারের পতন ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি তদারকি জোরদার করে সংস্থাটি। তারই অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংককে বিনিয়োগের আহ্বান জানায়। সেই সঙ্গে এবার আইসিবির বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ করলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের সীমা তুলে নেওয়ায় এসব কোম্পানিতে আইসিবির বিনিয়োগ বাড়বে বলে আমাদের ধারণা। আমরা আশা করি, আইসিবির মতো প্রতিষ্ঠান ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করুক। তাতে সংস্থাটি যেমন লাভবান হবে, তেমনি বাজারেও তার সুফল মিলবে।’

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন