default-image

করোনার খরা কাটাতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সব কিছু খুলে দেওয়া হলেও কাঙ্খিত রাজস্ব করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দাভাব চলছে। ফলে বিপাকে পড়েছে দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাটি। এমনিতেই গত অর্থবছরে প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এবার অর্থবছরের শুরুর মাস জুলাইয়ে সেই খরা অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি এনবিআর।

গতকাল বুধবার প্রকাশিত এনবিআরের সর্বশেষ হিসাবমতো, গত জুলাইয়ে শুল্ক-কর আদায়ে ৪ হাজার ৬২২ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। ওই মাসে ১৪ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। জুলাই মাসে লক্ষ্য ছিল ১৯ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়; ২০১৯ সালে জুলাই মাসে এনবিআর যত টাকা শুল্ক-কর আদায় করেছিল, তাও এবার আদায় করা সম্ভব হয়নি। গতবারের জুলাই মাসের আদায়ের চেয়ে ১ হাজার ৭২ কোটি টাকা কম টাকা আদায় হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য দিয়েছে সরকার। এর মানে, চলতি অর্থবছরে গতবারের চেয়ে রাজস্ব আদায়ে ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। কিন্তু প্রথম মাসেই রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রবনতা দিয়ে শুরু করল এনবিআর।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, করোনার কারণে ব্যবসাবাণিজ্যে শ্লথগতি। বেচাকেনা আগের মতো হচ্ছে না। আবার আমদানিও কমেছে। এসব কারণে জুলাই মাসে কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে ভ্যাট খাত থেকে। এই খাত থেকে ৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই মাসে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৬ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। অন্যদিকে শুল্ক খাতে আয় হয়েছে গত জুলাই মাসে ৫ হাজার ১৫ কোটি টাকা। গতবার একই সময়ে এই খাতে আদায় ছিল ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া আয়কর ও ভ্রমন করবাবদ প্রত্যক্ষ কর আদায় হয়েছে ৪ হাজার ১২০ কোটি টাকা। গতবার একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ৩৪৫ হাজার কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

করোনার কারণে গত এপ্রিল মাস থেকেই রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে। এপ্রিল ও মে মাসে রাজস্ব আদায় তলানিতে নামে। জুন মাসে রাজস্ব আদায় বাড়তে থাকে। জুলাই মাসেও পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও আগের মতো রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। করোনার প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়েছে। খুচরা পর্যায়ে বেচাকেনা যেমন কমেছে, আমদানিও কমেছে। ৩ লাখ ৫০০ কোটি টাকার বিপরীতে গত অর্থবছর শেষে ২ লাখ ১৮ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা আদায় করেছে এনবিআর। এপ্রিল-জুন অর্থ্যাৎ ওই তিন মাসে ৫৪ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0