default-image

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিংসাইন টেক্সটাইলের শেয়ারে বিনিয়োগ করে আবারও অনিশ্চয়তায় পড়লেন বিনিয়োগকারীরা। করোনার কারণে কাঁচামাল ও রপ্তানি আদেশের সংকটে সাময়িকভাবে কোম্পানিটি লে-অফ বা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারে যাঁরা বিনিয়োগ করেছিলেন, খবরটি তাঁদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। হঠাৎ করেই গতকাল রোববার এই লে-অফ ঘোষণা দেয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

গত ডিসেম্বরে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা পুঁজি সংগ্রহ করেছিল। সেই অর্থে কোম্পানির জন্য যন্ত্রপাতিসহ নানা সামগ্রী অধিগ্রহণ ও ব্যাংকঋণ শোধ করার কথা। আর তাতে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে আর বিনিয়োগকারীরা পাবেন মুনাফার ভাগ। কিন্তু সেই কোম্পানিই ভুগছে এখন আর্থিক সংকটে। আর শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য একের পর এক দুঃসংবাদ দিয়েই চলেছে কোম্পানিটি।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ডিইপিজেডে অবস্থিত রিংসাইন টেক্সটাইলের পক্ষ থেকে গতকাল জানানো হয়, করোনায় বিশ্বজুড়ে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং কাঁচামাল সংকটের কারণে এক মাসের জন্য কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গতকাল এ তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়। এ খবরে গতকাল দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে। এদিন ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৯ শতাংশ বা ৭০ পয়সা কমে নেমে এসেছে ৭ টাকা ১০ পয়সায়। এতে গতকাল ঢাকার বাজারে দরপতনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে শীর্ষে ছিল এটি।

এর আগে গত জানুয়ারিতে হঠাৎ করেই কোম্পানিটির বিদেশি মালিকেরা অনেকটা গোপনে দেশ ছেড়ে যান। পরে ইপিজেডের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) মধ্যস্থতায় দেশে ফেরত আনা হয় কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডিকে। এ ঘটনার জেরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাব জব্দ করার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানিটির সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। এতে ব্যাংক হিসাবে আটকে যায় কোম্পানিটির আইপিওর টাকার একটি বড় অংশ।

বিজ্ঞাপন

রিংসাইন টেক্সটাইলের কোম্পানি সচিব আশরাফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আর্থিক ও রপ্তানি আদেশের সংকটের কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ সংকট কাটিয়ে পুনরায় কোম্পানিটি উৎপাদনে ফিরে আসবে।’

বেপজা ও কোম্পানি–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানি আদেশ ও পুঁজির সংকটে হিমশিম খাওয়া এ কোম্পানিটির উদ্যোক্তারা কোম্পানিটি বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে দেনার ভারে জর্জরিত এ কোম্পানিটি কেনার মতো আগ্রহী কাউকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বেপজার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর বলেন, ‘কোম্পানিটি বেশ কিছুদিন ধরে আর্থিকভাবে দুর্বল। কোম্পানিটি নিয়ম অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করলে শ্রমিকের সব পাওনা পরিশোধ করার অবস্থাও নেই। তাই আমরা চাইছি, কোম্পানিটির কিছু অংশ বিক্রি করে হলেও সংকট কাটিয়ে উঠুক। শ্রমিকেরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেই চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে কোম্পানিটি সর্বশেষ গত জানুয়ারি-মার্চ সময়কালের যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানু-মার্চ-২০২০) এটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ১৯ পয়সা ঋণাত্মক। অথচ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারি-মার্চে ইপিএস ছিল ৩৩ পয়সা। তালিকাভুক্তির পর থেকেই কোম্পানিটির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হতে থাকে। এখন এসে আর্থিক সংকটে লে-অফ ঘোষণা করতে হয়েছে।

কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদনের আগেই এটির আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ডিএসইর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। তা সত্ত্বেও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন এটির আইপিও অনুমোদন করে।

মন্তব্য পড়ুন 0