default-image

লেনদেন বাড়ছে আর সূচক কমছে—এ ধারায় চলছে দেশের শেয়ারবাজার। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে লেনদেন আবারও ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে প্রধান এ বাজারের প্রধান সূচকটি এদিন কমেছে ২৯ পয়েন্ট। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি কমেছে ১০০ পয়েন্টের বেশি।

বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সূচকের এ পতনের বড় কারণ বিমা খাতের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। এ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কয়েক মাস ধরে একটানা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। স্বল্প মূলধনি এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কারসাজির মাধ্যমে সহজে বাড়ানো গেলেও সূচকে এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সীমিত।

অন্যদিকে যেসব ভালো মৌলভিত্তি ও বড় মূলধনি কোম্পানির সূচকে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, সেগুলোর দাম পড়তি। কারণ বিমা খাতের অস্বাভাবিক উল্লম্ফনে অন্যান্য খাতের শেয়ারে দাম প্রায় প্রতিদিনই কমছে। যার কারণে সূচকও নেতিবাচক।

বিজ্ঞাপন
এর আগে সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে ১ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। বেশ কিছুদিনের ধারাবাহিকতায় লেনদেনের বড় অংশজুড়ে ছিল বিমা খাতের শেয়ার। গতকালও ঢাকার বাজারে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ২০ কোম্পানির মধ্যে ১৭টিই ছিল বিমা খাতের কোম্পানি। ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেন হওয়া বিমা খাতের ৪৮ কোম্পানির মধ্যে ৩০টিরই দাম বেড়েছে।

ঢাকার বাজারে গতকাল দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১১২ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১১১ কোটি টাকা বেশি। গত এক মাসের ব্যবধানে গতকালই ঢাকার বাজারে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে ১ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। বেশ কিছুদিনের ধারাবাহিকতায় লেনদেনের বড় অংশজুড়ে ছিল বিমা খাতের শেয়ার। গতকালও ঢাকার বাজারে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ২০ কোম্পানির মধ্যে ১৭টিই ছিল বিমা খাতের কোম্পানি। ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেন হওয়া বিমা খাতের ৪৮ কোম্পানির মধ্যে ৩০টিরই দাম বেড়েছে। কমেছে ১৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৫টির দাম। এর মধ্যে বেশ কিছু বিমা কোম্পানির শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির পর ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে।

এদিকে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাদা চোখেই বোঝা যাচ্ছে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই কারসাজির মাধ্যমে এসব শেয়ারের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এতে তিন মাসের ব্যবধানে কোনো কোনো বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বাজারে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিমা খাতের বিনিয়োগ করা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

ব্যাংকে আমানত রাখার চেয়ে মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ারবাজারের কিছু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা লাভজনক। কারণ, ব্যাংকের আমানতের সুদের চেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে এসব ফান্ড ও শেয়ার থেকে।
বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম

মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে মিউচুয়াল ফান্ড

মূল্যবৃদ্ধির দিক থেকে ঢাকায় গতকাল আধিপত্য ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাতের। ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৬টিই ছিল মিউচুয়াল ফান্ড। ঢাকার বাজারে এদিন লেনদেন হওয়া ৩৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৬টিরই দাম বেড়েছে। ১টির দাম কেবল অপরিবর্তিত ছিল। বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মিউচুয়াল ফান্ডের গতকালের এ উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির একটি আহ্বান।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম গত মঙ্গলবার রাজধানীতে একটি অনলাইন পোর্টালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, ব্যাংকে আমানত রাখার চেয়ে মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ারবাজারের কিছু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা লাভজনক। কারণ, ব্যাংকের আমানতের সুদের চেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে এসব ফান্ড ও শেয়ার থেকে।

এ ছাড়া শেয়ারবাজারের যেসব বিনিয়োগকারী আর্থিক হিসাব–নিকাশ কম বোঝেন, তাঁদের মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তাঁর এ বক্তব্যের পর গতকাল বাজারে সব মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0