শেয়ারের দামের পতন ঠেকাতে গত বছরের ১৯ মার্চ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়। যাতে বেঁধে দেওয়া ওই সীমার নিচে কোনো শেয়ার নামতে না পারে।

শেয়ারের দামের পতন ঠেকাতে গত বছরের ১৯ মার্চ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়। যাতে বেঁধে দেওয়া ওই সীমার নিচে কোনো শেয়ার নামতে না পারে। এভাবে গত বছরের মার্চে শেয়ারবাজারের ভয়াবহ পতন থামিয়েছিল বিএসইসির তৎকালীন কমিশন। ওই কমিশনে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন এম খায়রুল হোসেন। ফ্লোর প্রাইস আরোপের আগে ১৮ মার্চ দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স নেমেছিল ৩ হাজার ৬০০ পয়েন্টে। ফ্লোর প্রাইসের কারণে নির্ধারিত সীমার নিচে শেয়ারের দাম না নামায় ২৫ মার্চ ডিএসইএক্স সূচকটি বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার পয়েন্টে।

গত ৭ এপ্রিল ৬৬ কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়েছিল। ৩ জুন তুলে নেওয়া হয় আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস। আর এখন এসে সব কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। তাতে ওই দিন থেকে বন্ধ হয়ে যায় শেয়ারবাজারের লেনদেনও। এর মধ্যে বিএসইসির নেতৃত্বেও বদল আসে। খায়রুল হোসেনের বিদায়ের পর বিএসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারে লেনদেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় একটানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর ৩১ মে থেকে আবারও শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়।

গত জুলাইয়ের পর থেকে শেয়ারবাজারে চাঙাভাব দেখা যাচ্ছে। তাতে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ৪ হাজার থেকে বেড়ে ৬ হাজার পয়েন্টে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় বিএসইসি ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল আজ। এর আগে গত ৭ এপ্রিল ৬৬ কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়েছিল। ৩ জুন তুলে নেওয়া হয় আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস। আর এখন এসে সব কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি তাদের এ-সংক্রান্ত আদেশে বলেছে, ফ্লোর প্রাইস উঠে গেলেও শেয়ারের দামের প্রতিদিনের উত্থান-পতনের ওপর আগের মতোই মূল্যস্তর বা সার্কিট ব্রেকার থাকবে। যেসব কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য ২০০ টাকার কম, সেসব কোম্পানির দাম এক দিনে ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে বা কমতে পারবে না। যেসব শেয়ারের দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেসব কোম্পানির দাম দিনে পৌনে ৯ শতাংশের কম-বেশি হতে পারবে না। ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দামের শেয়ারের ক্ষেত্রে এ মূল্যস্তর সাড়ে ৭ শতাংশ। ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকার বাজারমূল্যের শেয়ারে এ সীমা সোয়া ৬ শতাংশ। ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দামের শেয়ারের উত্থান-পতনের সীমা ৫ শতাংশ। আর ৫ হাজার টাকার বেশি দামের শেয়ার এক দিনে পৌনে ৪ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে।