বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
দু-তিন মাস আগে যেসব বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে চুপচাপ বসে ছিলেন, তাঁদের অনেকে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে আবারও সক্রিয় হয়েছেন। আর অনেক বিনিয়োগকারী সক্রিয় হওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস

শেয়ারবাজারে নিয়মিত কেনাবেচার কারণে প্রতিদিনই সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় বিও হিসাবের তারতম্য ঘটে। সাধারণত বাজারে যখন মন্দাভাব বা দরপতন দেখা দেয়, তখন নিষ্ক্রিয় হিসাবের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তখন অনেক বিনিয়োগকারী তাঁদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকেন। আবার বাজারে যখন ঊর্ধ্বমুখী ভাব বা গতি সঞ্চার হয়, তখন নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা আবার সক্রিয় হতে শুরু করেন।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন বছরের শুরু থেকে বাজারে কিছুটা গতি সঞ্চার হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে বাজারে সূচক বাড়তে শুরু করে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও বাজারে সক্রিয় হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। শেয়ারবাজারের একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে মার্চেন্ট ব্যাংক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দু-তিন মাস আগে যেসব বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে চুপচাপ বসে ছিলেন, তাঁদের অনেকে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে আবারও সক্রিয় হয়েছেন। আর অনেক বিনিয়োগকারী সক্রিয় হওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।’ গত কয়েক দিনে বাজারে কিছুটা গতি সঞ্চার হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজারে সক্রিয় হওয়ার আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করেন এই মার্চেন্ট ব্যাংকার।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে শেয়ারশূন্য বা নিষ্ক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ২০ হাজার ১৪৮। গত সোমবার এ সংখ্যা কমে নেমে আসে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৫০। অর্থাৎ সোমবার দিন শেষে প্রায় ৭৮ হাজার ৫৯৮টি নিষ্ক্রিয় বিওতে শেয়ার যুক্ত হয়। একইভাবে বৃহস্পতিবার শেয়ার আছে এমন বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ লাখ ৯৮ হাজার। গত সোমবার দিন শেষে সক্রিয় বিও হিসাবের এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৭৭ হাজারে। সক্রিয় বিও হিসাবের এ পরিসংখ্যান থেকেও দেখা যাচ্ছে প্রায় ৭৯ হাজার খালি বিও হিসাবে নতুন করে শেয়ার ঢুকেছে।

বর্তমান বিধান অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তি হতে দুই কার্যদিবস লাগে। সেই হিসাবে ৯ জানুয়ারি (রোববার) দিন শেষে যেসব বিনিয়োগকারীর শেয়ারশূন্য বিও হিসাবে শেয়ার যুক্ত হয়েছে, তাঁরা ওই শেয়ার কিনেছেন ৫ জানুয়ারি। ওই দিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৭ পয়েন্ট বেড়েছিল। আর ২১ নভেম্বরের পর ৫ জানুয়ারি লেনদেন ছাড়িয়েছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

গত সাত কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে নতুন বিও হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ১৮৬। গত ৩০ ডিসেম্বর শেয়ারবাজারে বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ২০ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৯। সোমবার লেনদেন শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৫৮৫।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে নতুন বিও হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ১৮৬। গত ৩০ ডিসেম্বর শেয়ারবাজারে বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ২০ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৯। সোমবার লেনদেন শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৫৮৫। আর ৬ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই কার্যদিবসের তথ্য বিবেচনায় নিলে এ সময়ে নতুন বিও বেড়েছে মাত্র ৭৮৫টি। এ পরিসংখ্যানের হিসাবে বলা যায়, গত দুই কার্যদিবসে বাজারে সক্রিয় হওয়া বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগই পুরোনো বিনিয়োগকারী। যাঁরা বাজারের মন্দাভাবের কারণে শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় হওয়ার প্রবণতাকে বাজারের জন্য ইতিবাচক মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, যত বেশি বিনিয়োগকারী বাজারে সক্রিয় থাকবেন, বাজার ততই গতিশীল হবে। তবে শেয়ার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন