default-image

বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দিলেও শেয়ারবাজারের কোনো কোম্পানির শ্রেণিমানের অবনতি ঘটছে না আর এ বছর। এ কারণে গত জুনে সমাপ্ত আর্থিক বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার ঘোষণা প্রদানকারী ১৬ কোম্পানির শ্রেণিমানের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ দেওয়া ১টি কোম্পানিরও শ্রেণিমানের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে যেসব কোম্পানি আগের বছরের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিচ্ছে, তাদের শ্রেণিমানের উন্নতি ঘটবে।

করোনার কারণে চলতি বছর শেয়ারবাজারের কোনো কোম্পানির শ্রেণিমানের যাতে অবনতি না ঘটে, সেই উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত বুধবার বিএসইসির কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন সভার সিদ্ধান্তের পর গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনার ব্যাপকতার বিবেচনায় শেয়ারসহ পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বিদ্যমান শ্রেণিতে অবস্থান করবে। তবে ঘোষিত লভ্যাংশের পরিমাণ যদি আগের বছরের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে শ্রেণিমানের উন্নতি হবে। এ বছর ঘোষিত বিভিন্ন কোম্পানির অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ পরবর্তী অর্থবছরের শ্রেণিমান সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন
লভ্যাংশ না দেওয়া ১৬ কোম্পানির মধ্যে গোল্ডেন হারভেস্ট, মালেক স্পিনিং, রেনউইক যোগেশ্বর, সায়হাম কটন, সায়হাম টেক্সটাইল ও জেমিনি ফুড বর্তমানে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত। এসব কোম্পানি ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণার পরও এ বছর তারা ভালো মানের কোম্পানি হিসেবে ‘এ’ শ্রেণিতেই থাকছে।

এখন পর্যন্ত ঘোষিত লভ্যাংশের বিবেচনায়, কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার পরও যে ১৬ কোম্পানি ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত হচ্ছে না সেগুলো হলো— বেঙ্গল উইন্ডসর, গোল্ডেন হারভেস্ট, মালেক স্পিনিং, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, রেনউইক যোগেশ্বর, সাফকো স্পিনিং, সায়হাম কটন মিলস, সায়হাম টেক্সটাইল, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, তশরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, জেমিনি সি ফুড, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, সেন্ট্রাল ফার্মা, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও জাহিন স্পিনিং।

এ ছাড়া নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে এক্সপ্রেস ইনস্যুরেন্স অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ দিলেও বিএসইসির নির্দেশনায় সেটিকে শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। ফলে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে এটি ‘এন’ শ্রেণিভুক্তই থাকছে এ বছর।

লভ্যাংশ না দেওয়া ১৬ কোম্পানির মধ্যে গোল্ডেন হারভেস্ট, মালেক স্পিনিং, রেনউইক যোগেশ্বর, সায়হাম কটন, সায়হাম টেক্সটাইল ও জেমিনি ফুড বর্তমানে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত। এসব কোম্পানি ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণার পরও এ বছর তারা ভালো মানের কোম্পানি হিসেবে ‘এ’ শ্রেণিতেই থাকছে। এক্সপ্রেস ইনস্যুরেন্স ৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা দিলেও শ্রেণিমান পরিবর্তনে সেটিকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। ফলে এটি বিদ্যমান ‘এন’ শ্রেণিভুক্ত থাকছে। এ ছাড়া বেঙ্গল উইন্ডসর, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, সাফকো স্পিনিং, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, তশরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, সেন্ট্রাল ফার্মা, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও জাহিন স্পিনিং লভ্যাংশ না দেওয়ার পরও ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত থাকবে।

শেয়ারবাজারের কোনো কোম্পানি ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত হলে ওই কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা কোনো ধরনের ঋণসুবিধা পান না। আবার জেড শ্রেণির শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এক দিন বেশি সময় লাগে।

গত ১ সেপ্টেম্বর জেড শ্রেণি সংক্রান্ত এক সংশোধনী আদেশ জারি করে বিএসইসি। সেখানে বলা হয়েছিল, এখন থেকে কোনো কোম্পানি পরপর দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিতে না পারলে সে ক্ষেত্রেই ওই কোম্পানিকে জেড শ্রেণিভুক্ত করা হবে। সংশোধনী ওই আদেশ জারির আগের নিয়মে শেয়ারবাজারের কোনো কোম্পানি হিসাব বছর শেষে শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ না দিলে সেই কোম্পানিকে খারাপ বিবেচনায় জেড শ্রেণিভুক্ত করা হতো। গত মে মাসে বিএসইসির নেতৃত্ব বদলের পর আগের সেই বিধানে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। ১ সেপ্টেম্বর নতুন আদেশ জারির পর যেসব কোম্পানির লভ্যাংশ না দেওয়ার ঘোষণা এসেছে, সেগুলোর শ্রেণিমান নিয়ে বিপাকে পড়ে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। সে জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে করণীয় জানতে চেয়ে চিঠি দেয় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।

স্টক এক্সচেঞ্জের চিঠির জবাবে গতকাল বিএসইসি জানিয়েছে, লভ্যাংশ না দিলেও করোনার কারণে এ বছর কোনো কোম্পানির শ্রেণিমানের কোনো অবনতি হবে না। অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বরের পর যেসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, সেসব কোম্পানি জেড শ্রেণিভুক্ত হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0