default-image

শেয়ারবাজারে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের শেয়ার নিয়ে বড় ধরনের কারসাজির প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। তাতে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে ইনসাইডার ট্রেডিং বা সুবিধাভোগী লেনদেনের ঘটনারও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা তদারকি করতে গিয়ে প্রাথমিক এসব তথ্য পেয়েছে।

বিএসইসির প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে লেনদেন–পরবর্তী কোম্পানিটির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএসইসির পরিচালক শেখ মাহবুবুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্য হলেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ওয়ারিসুল হাসান রিফাত। বিএসইসির মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সোমবারও কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এদিন অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য সাড়ে ৫ টাকা বা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা ৭০ পয়সায়। এর ফলে গতকাল কোম্পানিটি ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। মাত্র ১১ কার্যদিবসে এটির শেয়ারের দাম ৬ গুণের বেশি বেড়েছে। কোম্পানিটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি ১৫ কোটি টাকা মূলধন তুলেছে। ২৫ অক্টোবর থেকে শেয়ারবাজারে অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের লেনদেন শুরু হয়। এরপর থেকে টানা বাড়ছে এটির দাম। তাতে ১১ কার্যদিবসে ৫০৭ শতাংশ বা ৫০ টাকা ৭০ পয়সা বেড়েছে। এ মূল্যবৃদ্ধিকে খুবই ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করছে বাজার–সংশ্লিষ্টরা। তাই তারা এ মূল্যবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে আসছিল।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২৫ অক্টোবর লেনদেন শুরুর পর বাজার থেকে এটির বিপুল শেয়ার কেনেন বেশ কিছু প্লেসমেন্ট শেয়ারধারী। এমনকি কোম্পানিটির আইপিওর অবলেখনকারী প্রতিষ্ঠানসহ কোম্পানি, আইপিও প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এটির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার কেনাবেচায় অংশ নেয়। কেনাবেচা করেছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকটাত্মীয়ও। ৪ নভেম্বর কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারধারীদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, যার মধ্যে ছিল ২ শতাংশ নগদ ও ৮ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। এ লভ্যাংশ ঘোষণার আগে আগে

কোম্পানি ও তার শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে নানাভাবে সম্পর্কিত ব্যক্তিরা শেয়ার কেনাবেচা করে। এসব কেনাবেচা সুবিধাভোগী লেনদেন হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, যা নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মন্তব্য পড়ুন 0