default-image

প্রাথমিক তথ্যে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে নানা অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। সুবিধাভোগী লেনদেন বা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের প্রাথমিক প্রমাণও পেয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তার ভিত্তিতে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বিএসইসির দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজও শুরু করেছে। কিন্তু এত কিছুর পরও কোম্পানিটির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি চলছেই। এসব ঘটনা ঘটছে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের শেয়ার নিয়ে।

গত ৯ নভেম্বর অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে কমিটি করে বিএসইসি। সাধারণত নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ ধরনের পদক্ষেপে শেয়ারের দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ঘটছে উল্টোটি। গতকাল বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এদিন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম সাড়ে ৫ টাকা বা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা ৫০ পয়সায়। তালিকাভুক্তির পর মাত্র ১৩ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে হয়েছে ছয় গুণ। এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ তদারক করতে গিয়ে প্রাথমিক তথ্যে বিএসইসি কিছু ইনসাইডার ট্রেডিং এবং আইপিও কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির অস্বাভাবিক শেয়ার লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে। এসব লেনদেন করা হয়েছে মূলত লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে, যখন আইন অনুযায়ী সুবিধাভোগী লেনদেন নিষিদ্ধ।

বিজ্ঞাপন

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যেভাবে অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের শেয়ারের দাম বেড়েছে, সেটি একেবারেই অস্বাভাবিক। বাজারের জন্য এটি খুবই খারাপ নজির তৈরি করেছে। প্রাথমিক তথ্যে তার প্রমাণ পাওয়ার পরও নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় কারসাজিকারকেরা আরও বেশি প্রশ্রয় পাচ্ছেন।

এদিকে নিকট অতীতে কারসাজির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কারসাজিকারকদের লেনদেনের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব জব্দ করার নজির রয়েছে। কিন্তু অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের কারসাজিকারকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাতে একদিকে বাজারে ভুল বার্তা যাচ্ছে, অন্যদিকে কারসাজিকারকেরা নিরাপদে অস্বাভাবিক দামে সাধারণের হাতে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0