বিজ্ঞাপন

শেয়ারবাজার ও ব্যাংক খাতের পুরোনো লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোয়েল গ্রুপ হুন্ডি ব্যবসা ও ঋণ কেলেঙ্কারির জন্য একসময় ব্যাংক খাতের আলোচিত ব্যবসায়ী অশোক কেজরিওয়ালের মালিকানাধীন। ১৯৯২ থেকে ’৯৫ সাল পর্যন্ত শেয়ারবাজারেও আলোচিত এক নাম ছিল দোয়েল গ্রুপ। ওই গ্রুপের চারটি কোম্পানি ও দুটি ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে এ সময়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। একাধিক ব্যাংকার জানান, অশোক কেজরিওয়াল ও তাঁর মালিকানাধীন দোয়েল গ্রুপ, গিরিধারী লাল মোদী ও তাঁর প্রতিষ্ঠান এবং ওম প্রকাশ আগারওয়ালের বেআইনি বৈদেশিক লেনদেন ও ঋণ অনিয়মে সহায়তার জন্য ২০০৩ সালে তিন ব্যাংকের তিনজন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। হুন্ডি ব্যবসার জন্য এ তিন ব্যবসায়ী ও তাঁদের প্রতিষ্ঠান ছিল ব্যাংক খাতে আলোচিত নাম।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সংস্থাটির হাতে যে তথ্য রয়েছে, তাতে বিডি লাগেজ ডিবেঞ্চারে প্রায় ৮ কোটি টাকা এবং বিডি জিপারের ডিবেঞ্চারে প্রায় ১ কোটি টাকা অনাদায়ি পাওনা রয়েছে বিনিয়োগকারীদের। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত চার কোম্পানির মধ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের ৫৭ শতাংশ, বাংলাদেশ ডায়িং অ্যান্ড ফিনিশিংয়ের ৬০ শতাংশ, বিডি লাগেজের ৫০ শতাংশ ও বিডি জিপারের ৬৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে শেয়ারবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা এ চার কোম্পানির শেয়ারের একটি বড় অংশই রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) হাতে। সেই হিসাবে চার কোম্পানির তালিকাচ্যুতি প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে আইসিবি।

বিএসইসি বলছে, তালিকাচ্যুতির অংশ হিসেবে আজ থেকে চার কোম্পানি ও দুই ডিবেঞ্চারের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে সম্মিলিতভাবে এস্ক্রু হিসাব (যে হিসাবে নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন ছাড়া লেনদেন করা যায় না) খুলে ডিবেঞ্চার ও কোম্পানির শেয়ারধারীদের দাবি ও অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। তবে বিনিয়োগকারীরা কত টাকা করে ফেরত পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যেই বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

শেয়ারবাজার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন