সেই ১২ কোম্পানির ৬টিই বিক্রেতাশূন্য

  • শেয়ারবাজারে ‘জেড’ শ্রেণি থেকে বেরিয়ে আগের অবস্থানে ফিরে গেছে ১২ কোম্পানি।

  • বিএসইসির নির্দেশে আজ সকালেই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ কোম্পানিগুলোর শ্রেণি পরিবর্তন করেছে।

  • ১২ কোম্পানির শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়াও আজ থেকে ‘জেড’ শ্রেণির বিষয়ে নেওয়া বিএসইসির একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

শেয়ারবাজারে ‘জেড’ শ্রেণি থেকে বেরিয়ে আগের অবস্থানে ফিরে গেছে ১২ কোম্পানি। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সিদ্ধান্তে আজ বুধবার থেকে এসব কোম্পানির শ্রেণিমানের উন্নতি ঘটেছে।
শেয়ারবাজারে জাঙ্ক শেয়ার বা বাজে মানের কোম্পানিকে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়।

এর মধ্য থেকে যে ১২টি কোম্পানি আজ বেরিয়ে গেছে, সেগুলো হলো এবি ব্যাংক, অ্যাপোলো ইস্পাত, বিডি থাই, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, লিবরা ইনফিউশনস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, সাফকো স্পিনিং, সালভো কেমিক্যাল, ফু-ওয়াং সিরামিকস, প্রাইম ইনস্যুরেন্স ও জাহিনটেক্স।

এর মধ্যে এবি ব্যাংক, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, প্রাইম ইনস্যুরেন্স, লিবরা ইনফিউশনস ও হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ‘জেড’ শ্রেণি থেকে ‘এ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। বাকি ৭টি কোম্পানি ‘বি’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। বিএসইসির নির্দেশে আজ সকালেই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ কোম্পানিগুলোর শ্রেণি পরিবর্তন করেছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেই তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিয়ম অনুযায়ী, শ্রেণি পরিবর্তন হওয়ায় এসব শেয়ারের বিপরীতে ৩০ কার্যদিবস কোনো ধরনের ঋণসুবিধা পাবেন না বিনিয়োগকারীরা। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণদাতা মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসকে এসব শেয়ারে ৩০ কার্যদিবস ঋণসুবিধা না দেওয়ার কথা জানিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। নগদ টাকায় এসব শেয়ার কিনতে হবে। তা সত্ত্বেও এসব শেয়ারের ব্যাপক ক্রেতা–চাহিদা তৈরি হয়েছে।

শ্রেণিমান পরিবর্তনের খবরে ১২ কোম্পানির মধ্যে অ্যাপোলো ইস্পাত, ফু-ওয়াং সিরামিকস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ, লিবরা ইনফিউশনস, জাহিনটেক্স ও প্রাইম ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে দিনের শুরুতে। একপর্যায়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ ৬টি কোম্পানি লেনদেনের প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। বেলা সাড়ে ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোম্পানি ৬টি ডিএসইতে বিক্রেতাশূন্য অবস্থাতেই ছিল। বাকি ৬টিরও দাম বেড়েছে। তবে সেগুলোর বিক্রেতা উধাও হয়ে যায়নি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১২ কোম্পানির শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়াও আজ থেকে ‘জেড’ শ্রেণির বিষয়ে নেওয়া বিএসইসির একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে আজ থেকে এসব শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমে চার দিনে নেমে এসেছে। আগে ‘জেড’ শ্রেণির শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তিতে ১০ দিন সময় লাগত।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বর্তমানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৫৪। সেখান থেকে ১২টি কোম্পানির শ্রেণিমান উন্নত হওয়ায় তাতে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪২টিতে।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, নানা মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ‘লাল, হলুদ ও সবুজ’—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ‘সবুজ’ শ্রেণির ১২ কোম্পানির উদ্যোক্তা–পরিচালকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে বিএসইসি। তাতে কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা–পরিচালকেরা কোম্পানির মানোন্নয়নসহ ভালো ব্যবসার অঙ্গীকার করেন। এরই ভিত্তিতে শর্ত সাপেক্ষে ১২ কোম্পানিকে জেড শ্রেণি থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা–পরিচালকদের শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব কোম্পানির উদ্যোক্তা–পরিচালকেরা বাজারের কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। এ ছাড়া এসব কোম্পানির সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে বিশেষ নিরীক্ষা (স্পেশাল অডিট) করবে বিএসইসি। গতকাল মঙ্গলবার এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, যেসব কোম্পানি দুই বছরের কম সময় ধরে জেড শ্রেণিভুক্ত রয়েছে, সেসব কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে বিএসইসির পক্ষ থেকে এক বা একাধিক স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করা হবে।

বিএসইসির নতুন আদেশ অনুযায়ী, জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা এখন থেকে বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো শেয়ার কেনাবেচা, বন্ধক ও স্থানান্তর করতে পারবেন না। জেড শ্রেণির কোম্পানিগুলোকে আর্থিক বছর শেষের ছয় মাসের মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে হবে। এ সভায় সশরীরে অথবা অনলাইনে শেয়ারধারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলেছে বিএসইসি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন