বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর ২৫ শতাংশ কর এবং ওই করের ওপর ৫ শতাংশ হারে জরিমানা দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তাতে সব মিলিয়ে করভার পড়ে ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। গতবারের মতো এবারও

নগদ টাকা, ব্যাংকে রাখা টাকা, সঞ্চয়পত্র, শেয়ারবাজার, জমি-ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ আছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, কালোটাকা সাদা করা বাবদ গত পাঁচ মাসে মাত্র ২৬ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সব সময় কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি করহার ও জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করেছি। এ অর্থবছরে সেটি করা হয়েছে। ফলে কালোটাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আগ্রহ কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।’ আবুল কাসেম খান মনে করেন, করহার বেশি হলে একসময় কালোটাকার মালিকেরা আগ্রহী হবেন না। পাশাপাশি কালোটাকার মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে হবে। এতে সৎ করদাতাদের প্রতি ন্যায়বিচার করা হবে।

কালোটাকায় ফ্ল্যাট-জমি কিনেছেন সাড়ে পাঁচ শ করদাতা গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫৫৮ জন করদাতা ফ্ল্যাট ও জমিতে বিনিয়োগ দেখিয়ে কালোটাকা সাদা করেছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রায় পাঁচ হাজার করদাতা জমি-ফ্ল্যাটে কালোটাকা বিনিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন। এলাকাভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিলেই ফ্ল্যাট ও জমি কেনার টাকার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করবে না এনবিআর। চলতি অর্থবছরের উল্লেখিত ৫ মাসে ৪৬০ জন করদাতা এনবিআরকে জানিয়েছেন, তাঁরা কালোটাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন। আর ৯৮ জন করদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা জমিতে কালোটাকা বিনিয়োগ করেছেন।

এনবিআর সূত্রে আরও জানা গেছে, গত জুলাই থেকে নভেম্বর সময়কালে ১২৩ জন করদাতা নগদ টাকা কিংবা সঞ্চয়পত্র, এফডিআরে বিনিয়োগ করে কালোটাকা সাদা করেছেন। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৬৮৩ জন নগদ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও এফডিআরে বিনিয়োগ করে কালোটাকা সাদা করেছিলেন।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, করহার বৃদ্ধি ও জরিমানা আরোপের কারণে এবার করদাতাদের মধ্যে কালোটাকা সাদা করার তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তাই এই সুযোগ একসময় বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে এনবিআর।

শেয়ারবাজারে গেছেন মাত্র ১৩ জন

শেয়ারবাজারে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া নিয়ে চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ছিল। শেয়ারবাজারে চাঙা ভাব আসবে, এমন প্রত্যাশা থেকেই শেয়ারবাজারে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

কিন্তু বাস্তবে খুব বেশি বিনিয়োগকারী এই সুযোগ নেননি। গত জুলাই-নভেম্বরে মাত্র ১৩ জন বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগ করেছেন। তাঁরা সব মিলিয়ে ৫০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে ২৮৬ জন করদাতা শেয়ারবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে শেয়ারবাজারে ২০ লাখের বেশি সক্রিয় বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব আছে। সেই বিবেচনায় কালোটাকা বিনিয়োগ করেছেন, এমন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা খুবই নগণ্য।

এ বিষয়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। এতে দুর্নীতি উৎসাহিত হয়। সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হন। তিনি আরও বলেন, গত বছর আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরাই বলেছিলেন, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ায় খাতটি চাঙা হয়েছে। যদি সেটি হয়, তাহলে তো আবাসন খাতটি কালোটাকার মালিকদের হাতে চলে যাবে। সৎভাবে উপার্জনকারীরা ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন না। তাই এই ধরনের সুযোগ নৈতিকতার বড় ধরনের অবক্ষয়।

সব সরকারের আমলেই কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল ছাড়া আর কোনো সরকারের সময় কালোটাকা সাদা করায় খুব বেশি সাড়া পাওয়া যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের

আমলে সবচেয়ে বেশি ৩২ হাজার ৫৫৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কালোটাকা সাদা করার সুযোগ

নিয়েছিল। এরপর গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৯ করদাতা কালোটাকা সাদা করেছিলেন। তাতে ওই বছর ২০ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছিল।

আপনার টাকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন