বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যে মে মাসে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। সেই তুলনায় পরের মাসে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় (ওএনএস) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ অবশ্য আলোচ্য সময়ে মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করেছিলেন।

খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণেই মূলত যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আবার দুটিই ঘটেছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু হওয়ার সুবাদে।

এ নিয়ে সেই দেশে টানা দুই মাস মূল্যস্ফীতি দুই শতাংশের ওপরে রয়েছে, যা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির হার হলো ২ শতাংশ। এ অবস্থায় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানো উচিত কি অনুচিত, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিতে পারে।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, মূল্যস্ফীতি কী? পণ্য বা সেবার মূল্যবৃদ্ধিকে মূল্যস্ফীতি বলে। উদাহরণস্বরূপ, এক পাত্র বা বয়াম জ্যামের দাম ১০০ ব্রিটিশ পাউন্ড। এখন যদি ওই জ্যামের দাম বেড়ে ১০৫ পাউন্ডে ওঠে। তার মানে পণ্যটির দাম ৫ পাউন্ড বেড়েছে। এই ৫ পাউন্ডই অর্থাৎ ৫ শতাংশই হলো মূল্যস্ফীতি।

মূল্যস্ফীতি বাড়লে তা নিয়ে কথা ওঠে, হইচই হয়। কিন্তু মাসের পর মাস ধরে নিম্ন মূল্যস্ফীতিও চলতে পারে না। একইভাবে টানা মূল্যস্ফীতির প্রভাবও দীর্ঘ মেয়াদে ভালো হয় না। কারণ, তখন প্রশ্ন দেখা দেয়, একজন ভোক্তা নির্দিষ্ট কোনো অর্থ দিয়ে কী পরিমাণ কিনতে পারছেন এবং আগে কতটা পারতেন?

সাধারণত বাজার থেকে খাদ্যপণ্য ক্রয় ও পরিবহন ভাড়ার পেছনেই ভোক্তাদের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ খরচ হয়। এরপরই জামাকাপড়, জুতা—এসব কিনতে অর্থ খরচ হয়। সাধারণত বছরের এ সময়ে যুক্তরাজ্যে জামা, জুতা ইত্যাদির দাম কম থাকলেও এবার ব্যতিক্রম ঘটেছে। অর্থাৎ উল্টো এগুলোর দাম বেড়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির পালে হাওয়া লেগেছে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে পুরোনো বা ব্যবহৃত গাড়ির দাম কমলেও গত মে-জুন মাসে তা বেড়েছে।

ওএনএসের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জোনাথন অ্যাথো বলেন, খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে পুরোনো গাড়ি পর্যন্ত সবকিছুরই দাম বেড়েছে।

তবে যুক্তরাজ্যকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কথা শুনিয়েছেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বিদায়ী প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যান্ডি হ্যাল্ডানে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির শঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি চলতি বছরে প্রায় ৪ শতাংশের কাছাকাছি ওঠে যেতে পারে।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন