default-image

হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বল এবার নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কোর্টে। কীভাবে তিনি কোভিড ও কোভিডজনিত অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করেন, সবার চোখ এখন সেদিকে।

এক বছরের মধ্যে কোভিডের টিকা উদ্ভাবিত হলো। টিকাকরণও শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু টিকা উদ্ভাবন যত দ্রুত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে টিকাকরণে সেই গতি দেখা যাচ্ছে না। যার একটি কারণ হচ্ছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোভিডবিষয়ক নিস্পৃহতা এবং আরেকটি কারণ হচ্ছে, মহামারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া।

এদিকে ক্ষমতায় এসেই জো বাইডেন টিকাদানে গতি আনার জন্য বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। পরীক্ষার হার বাড়ানোর জন্যও বিশেষ আদেশে সই করেছেন তিনি। ব্যাপারটা সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করার মতো। আবার এটা শুধু জীবন বাঁচানোর জন্যও নয়, অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার জন্যও।

বিজ্ঞাপন

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনভেসকোর প্রধান বৈশ্বিক কৌশলবিদ ক্রিস্টিনা হুপার বলেছেন, ‘গণহারে টিকাকরণ শুরু না হলে আমরা শক্তিশালী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দেখব না।’

অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকও বলছে, টিকাদানের প্রভাব অনুভূত না হওয়া পর্যন্ত অর্থনীতি স্বাভাবিকতা ফিরে পাবে না। তাদের পূর্বাভাস, চলতি বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু গণহারে টিকাকরণ শুরু না হলে বা টিকাদানে বিলম্ব হলে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।

গ্রীষ্মকালটা খুব খারাপ গেছে যুক্তরাষ্ট্রের। এরপর তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতি অনেকটা ঘুরে দাঁড়ালেও চতুর্থ প্রান্তিকে আবার সংকুচিত হয়েছে মার্কিন অর্থনীতি। কোভিডের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসেই কর্মসংস্থান বাড়ছিল। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে এসে গত বসন্তের পর এই প্রথম দেশটিতে কর্মসংস্থান হ্রাস পায়। আর ট্রাম্পের শেষ কয়েকটি দিনে ৯ লাখ মার্কিন এই প্রথম বেকার ভাতার আবেদন করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট সিএনএন বিজনেসকে বলেছেন, মার্কিন অর্থনীতি উল্টো দিকে ছুটছে, তাতে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপির বড় ধরনের সংকোচন হতে পারে।

এদিকে মহামারিতে ইতিমধ্যে চার লাখের বেশি মার্কিন মারা গেছেন। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যভাগে মৃতের সংখ্যা ৫ লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) নতুন পরিচালক রোশেল ওয়ালেনস্কি এনবিসিকে বলেছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সবাই টিকা পেয়ে যাবে, তা তিনি মনে করেন না। বাইডেন প্রশাসন প্রথম ১০০ দিনে ১০ কোটি ডোজ টিকা দিতে চায়। তবে সিডিসি কর্মকর্তারা বলছেন, এটি এখনো পরিকল্পনার পর্যায়েই আছে।


টিকার গুরুত্ব

কোভিড-১৯ এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্থানেই এখনো নানা রকম বিধিনিষেধ আছে। আবার সচেতন মানুষেরাও স্বেচ্ছায় নানা রকম বিধিনিষেধ মেনে চলছেন। ফলে অর্থনীতির ভাইরাস–সংশ্লিষ্ট অংশগুলো এখনো নাজুক, বিশেষ করে সেবা খাত।

সিএনএন বিজনেস রিকভারি ড্যাশবোর্ড অনুসারে অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন, হোটেলে কক্ষ বুকিং, সিনেমার টিকিট বিক্রি—সবকিছু এখনো সংকটের আগের সময়ের চেয়ে অনেক কম।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন