default-image

রোববারের বিকেলটায় তাঁর দম ফেলার ফুরসত থাকার কথা নয়। বিশেষ করে পরের দিন যাঁকে হাউস অব কমন্সে রাষ্ট্রের বাজেট পেশ করতে হবে। তা–ও আবার টানা এক বছরের বেশি সময় ধরে অর্থনীতি এবং জীবনকে স্থবির করে রাখা মহামারিকালের বাজেট।

কিন্তু ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের কপালে যেন চিন্তার কোনো ভাঁজই চোখে পড়ছে না। বাড়ির ব্যাকইয়ার্ডে তিনি নিজের একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ডিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। কালো রঙের একটি টি–শার্ট, যার বুকে ফরাসি ভাষায় লেখা ‘আমি ফেমিনিস্টদের কথা বলি’, গলায় দুই ভাঁজের সাদা মুক্তার একটি গয়না।

ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে নিয়ে নানা মহলের কৌতূহল ছিল অন্য কারণে। প্রথমত কানাডার ইতিহাসে প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী জাতীয় বাজেট দিচ্ছেন, যিনি একসময় ছিলেন ডাকসাইটে সাংবাদিক।

সেই ভিডিওতে তিনি জুতার কথা বলেছেন। হাউস অব কমন্সে জাতীয় বাজেট পেশ করার আগে কানাডার অর্থমন্ত্রী নতুন জুতা কেনেন। সেই জুতা পায়ে দিয়ে তিনি সংসদে যান এবং বাজেট পেশ করেন। এটিই হচ্ছে কানাডার ঐতিহ্য। ১৯৫০ সাল থেকে টানা চলে আসছে এই ঐতিহ্য। অর্থমন্ত্রী কোন ধরনের জুতা কিনছেন, মিডিয়ার তীক্ষ্ণ নজর থাকে সেদিকে। বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রীর কেনা জুতা দেখে বাজেটে কী গুরুত্ব পাচ্ছে, সে ব্যাপারে সবাই একটা ধারণা নেয়।

ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে নিয়ে নানা মহলের কৌতূহল ছিল অন্য কারণে। প্রথমত কানাডার ইতিহাসে প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী জাতীয় বাজেট দিচ্ছেন, যিনি একসময় ছিলেন ডাকসাইটে সাংবাদিক। রয়টার্সের ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে আসা ক্রিস্টিয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শেষ করে এখন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন, একই সঙ্গে আছেন উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে। সংসদ স্থগিত করে দিয়ে নতুন যাত্রার পর লিবারেল সরকার কোনো বাজেট পেশ করেনি। গত দুই বছরে এটিই তাদের প্রথম বাজেট। ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর এটি হচ্ছে তাঁর প্রথম বাজেট। কানাডার ইতিহাসে কোনো নারী অর্থমন্ত্রীর দেওয়া প্রথম বাজেটও এটি।

বিজ্ঞাপন
‘ভাজেল’ নামের এই জুতা কোম্পানি টরন্টোয় যাত্রা শুরু করেছিল ২০১৫ সালে। অপেক্ষাকৃত নতুন এবং ক্ষুদ্র একটি কোম্পানি থেকে বাজেট অধিবেশনের জুতা কেনেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। জুতা কিনে এনেই তিনি ফোন করেন কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর এল আইয়ুবজাদেহকে।

করোনার কারণেই হোক আর নারী অর্থমন্ত্রী বাজেট দিচ্ছেন বলেই হোক, মিডিয়া এবার অর্থমন্ত্রীর জুতার দিকে তেমন একটা নজর দেয়নি। কোভিডকালীন বিপুল ব্যয়, অকল্পনীয় ঘাটতির আলোচনায় অর্থমন্ত্রীর জুতার আলোচনাটি আড়ালই হয়ে গিয়েছিল। তাতে কী! ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড অর্থমন্ত্রীদের চিরায়ত ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করেননি। বাজেট পেশের আগের দিন রোববারই তিনি বাজেট অধিবেশনে পায়ে দেওয়ার জন্য জুতা কিনে ফেলেন। টরন্টোর ডাউন টাউনে তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বাজেট অধিবেশনের জুতা কেনেন তিনি।

‘ভাজেল’ নামের এই জুতা কোম্পানি টরন্টোয় যাত্রা শুরু করেছিল ২০১৫ সালে। অপেক্ষাকৃত নতুন এবং ক্ষুদ্র একটি কোম্পানি থেকে বাজেট অধিবেশনের জুতা কেনেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। জুতা কিনে এনেই তিনি ফোন করেন কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর এল আইয়ুবজাদেহকে। ইরানি বংশোদ্ভূত তরুণী এলকে অর্থমন্ত্রী জানান, তাঁর ডিজাইন করা, তাঁর প্রতিষ্ঠানের জুতা পরে তিনি এবার বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন। বাজেট অধিবেশনের জন্য অর্থমন্ত্রীর কেনা জুতার দাম কত? কালো রঙের একেবারে খাঁটি চামড়ার এই জুতাজোড়ার জন্য তিনি পরিশোধ করেন ২৯৫ ডলার। ইরানি তরুণী এল ইয়াকুবজাদেহর ডিজাইন করা কোম্পানির এই জুতার নাম হচ্ছে ‘রায়ানা’।

একজন নারী উদ্যোক্তার, নারী ডিজাইনারের ডিজাইন করা জুতাকে তিনি বেছে নিয়েছেন বাজেট অধিবেশনের জুতা হিসেবে, যার প্যাকেটের গায়ে বড় করে লেখা আছে ‘ওয়াক হাউ ইউ ওয়ান্ট—তুমি যেভাবে চাও, সেভাবেই হাঁটো’।

বাজেট অধিবেশনে পায়ে দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের বাছাই করা জুতার তাৎপর্য কী? বাজেটপূর্ব সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পকে তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করতে চান।

বাজেট অধিবেশনে পায়ে দেওয়ার জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন ক্ষুদ্র একটি কোম্পানি আর কানাডার ওয়ার্কিং উইম্যানদের পায়ে দেওয়ার জুতা। কোভিড থেকে অর্থনীতিকে উদ্ধারের কর্মসূচিকে তিনি ‘ফেমিনিস্ট রিকভারি’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন আগেই। বাজেটে নজর দিয়েছেন কানাডার ‘ওয়ার্কিং উইম্যানদের দিকে। আর একজন নারী উদ্যোক্তার, নারী ডিজাইনারের ডিজাইন করা জুতাকে তিনি বেছে নিয়েছেন বাজেট অধিবেশনের জুতা হিসেবে, যার প্যাকেটের গায়ে বড় করে লেখা আছে ‘ওয়াক হাউ ইউ ওয়ান্ট—তুমি যেভাবে চাও, সেভাবেই হাঁটো’।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন