default-image

করোনাকালেও সেরা ব্র্যান্ডের আসন ধরে রেখেছে অ্যাপল। তবে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে আমাজন। ২০২০ সালে আমাজনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬০ শতাংশ। এরপরেই আছে মাইক্রোসফট। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানিগুলো অনেকটা এগিয়ে গেছে এ সময়। কারণ, মানুষ ছিল ঘরবন্দী। প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন কোম্পানি ঘরবন্দী জীবনের সাধারণ প্রয়োজনগুলো মিটিয়েছে, যা অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারব্র্যান্ড সম্প্রতি সেরা ও মূল্যবান ব্র্যান্ডের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকা বলছে, অ্যাপলের ব্র্যান্ড মূল্য এখন ৩২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার বা ৩২ হাজার ২৯০ কোটি ডলার। এরপরেই উঠে এসেছে জেফ বেজোসের আমাজন, ২০০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ২০ হাজার ৬৭ কোটি ডলার। অ্যাপল সবার ওপরে থাকলেও প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে বেশে বেড়েছে আমাজন, ৬০ শতাংশ।

শীর্ষ ১০-এ প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানিগুলোর আধিপত্যই বেশি। আর দেশ হিসেবে একচেটিয়া আধিপত্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ব্যতিক্রম অবশ্য তিনটি। যেমন দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং, জাপানের টয়োটা এবং জার্মানির মার্সিডিজ বেঞ্জ।

ইন্টারব্যান্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনার সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোম্পানিগুলো ভালো করেছে। যেমন ইনস্টাগ্রাম শীর্ষ ১০০ ব্র্যান্ডের মধ্যে ১৯ নম্বর স্থানে চলে এসেছে, আর ইউটিউবের অবস্থান এখন ৩০তম এবং জুম ১০০তম।

বিজ্ঞাপন

করোনাকালের হোম অফিস বা বাসায় বসে কাজ জুমের ব্যবসা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেমন জুমের বাজার মূলধন বেড়েছে ৩৮৯ শতাংশ আর আয় বেড়েছে ২৭০ শতাংশ।

এবার দেখা যাক, শীর্ষ ১০–এ অ্যাপল ও আমাজনের পরে কে কে আছে। তৃতীয় স্থানে থাকা মাইক্রোসফটের ১৬৬ বিলিয়ন ডলার, আর গত ১২ মাসে তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৩ শতাংশ। গুগলের মূল্য এখন ১৬৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। আর ১২ মাসে গুগলের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক, ১ শতাংশ। পরের ৬ কোম্পানি অবশ্য অনেক পিছিয়ে। স্যামসাংয়ের মূল্য ৬২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, কোকা–কোলার ৫৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, টয়োটার সাড়ে ৫১ বিলিয়ন ডলার, মার্সিডিজ বেঞ্জের মূল্য ৪৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, নবম স্থানে থাকা ম্যাকডোনাল্ডের মূল্য ৪২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার এবং ডিজনির মূল্যমান ৪০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

এবার দেখা যাক গত ১২ মাসে কোন কোম্পানির প্রবৃদ্ধি বেশি। আগেই বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি আমাজনের, ৬০ শতাংশ। এরপরেই মাইক্রোসফট, ৫৩ শতাংশ। গান শোনার কোম্পানি স্পোটিফাইয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫২ শতাংশ, নেটফ্লিক্সের প্রবৃদ্ধি ৪১ শতাংশ, পে-পালের প্রবৃদ্ধি ৪১ শতাংশ, অ্যাডোবি ও অ্যাপলের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৩৮ শতাংশ করে, মার্কিন সফটওয়্যার কোম্পানি সেলসফোর্স ডটকমের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪ শতাংশ, জাপানের ইলেকট্রনিকস ও ভিডিও গেম কোম্পানি নিটেনদোর প্রবৃদ্ধি ৩১ শতাংশ এবং মাস্টারকার্ডের প্রবৃদ্ধি হয়েছে, ১৭ শতাংশ।

টেসলা সম্প্রতি ভবিষ্যতের বাহন সাইবারট্রাক এবং চালকবিহীন রবোট্যাক্সি উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। আরেকটি কোম্পানিও নতুন করে শীর্ষ ব্র্যান্ডে ঢুকে পড়েছে—স্কটিশ হুইস্কি কোম্পানি জনি ওয়াকার।

সেরা ব্র্যান্ডের তালিকায় এবার বহুদিন পরে ঢুকে পড়েছে মার্কিন ক্লিন এনার্জি ও ইলেকট্রনিক গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা। গত ১২ মাসে তাদের বাজার মূলধন বেড়েছে ৭৬৯ শতাংশ এবং গত ৬ মাসে আয় বেড়েছে ১০ শতাংশ।

টেসলা সম্প্রতি ভবিষ্যতের বাহন সাইবারট্রাক এবং চালকবিহীন রবোট্যাক্সি উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। আরেকটি কোম্পানিও নতুন করে শীর্ষ ব্র্যান্ডে ঢুকে পড়েছে—স্কটিশ হুইস্কি কোম্পানি জনি ওয়াকার। যদিও কোভিড-১৯ এর সময় বিক্রি খানিকটা কমলেও শীর্ষ ব্র্যান্ড হতে সমস্যা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0