default-image

দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে এবং সেই সঙ্গে আছে ব্রেক্সিটজনিত অনিশ্চয়তা—এই দুই কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে এখন ভালো খবর নেই বললেই চলে। দ্বিতীয় দফা মন্দার আশঙ্কার মধ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতিতে ১৫ হাজার কোটি পাউন্ড সঞ্চালনা করতে যাচ্ছে। অর্থনীতিকে টেনে তুলতে এর বিকল্প আপাতত নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছে, সুদহার যে রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস করা হয়েছিল, তা আরও কিছুদিন সেখানেই থাকবে—শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। তবে তারা ৮ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের সরকারি বন্ড কিনবে বলে জানিয়েছে। এদিকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাতে ভোক্তা ব্যয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকার আগস্ট মাসে যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ হবে। এতে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকেও জিডিপির সংকোচন হবে বলে মনে করে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।

গতকাল ইংল্যান্ডে আবারও লকডাউন শুরু হয়েছে। এই দফায় রেস্তোরাঁ, বার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় নয়, এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগামী ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। গত বুধবার দেশটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে—২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজার ১৭৭টি।

বিজ্ঞাপন
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ধারণা করছে, বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনীতি ২ শতাংশ সংকুচিত হবে এবং ২০২০ সালে সংকোচনের হার দাঁড়াবে ১১ শতাংশ।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড মনে করছে, দীর্ঘ মেয়াদে এই মহামারি অর্থনীতির সংকোচন ঘটাবে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আরও জানিয়েছে, লকডাউন ও ব্রেক্সিটজনিত অনিশ্চয়তার কারণে ইংল্যান্ড এখন অভূতপূর্ব অনিশ্চয়তার কবলে পড়েছে। এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন চুক্তি না হলে ২০২১ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে ইংল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা ইউরোপে ব্যবসা করতে গেলে শুল্কসহ নানা ধরনের বাধার মুখে পড়বে।

তবে সবকিছু মূলত নির্ভর করছে করোনাভাইরাসের বিস্তার এবং সংক্রমণ রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তার ওপর। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কী দাঁড়ায়, সেটাও অনেক কিছু নির্ধারণ করে দেবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক বাজার ও পারিবারিক পরিস্থিতির ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে।

এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ধারণা করছে, বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনীতি ২ শতাংশ সংকুচিত হবে এবং ২০২০ সালে সংকোচনের হার দাঁড়াবে ১১ শতাংশ।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড মনে করছে, দীর্ঘ মেয়াদে এই মহামারি অর্থনীতির সংকোচন ঘটাবে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর মহামারি-পূর্ব অবস্থায় ফেরত যেতে ২০২২ সাল লেগে যাবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বুধবার প্রকাশিত ব্যবসায়িক তৎপরতাবিষয়ক এক সমীক্ষার প্রতিবেদন দেখা গেছে, জুন মাসের পর অক্টোবর মাসে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়িক তৎপরতা ছিল সবচেয়ে কম। নতুন কার্যাদেশ কমে যাচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে বেকারত্ব।

সমীক্ষাটি সমন্বয় করেছে আইএইচএস মার্কিটের অর্থনীতিবিষয়ক পরিচালক টিম মুর। তিনি বিবিসিকে বলেন, নভেম্বর মাসের লকডাউন এবং কোভিড-১৯-এর খারাপ পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, এই শীতে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি দ্বিতীয় মন্দার কবলে পড়বে। ফলে ২০২১ সালে ঘুরে দাঁড়ানোর পথটা হবে বন্ধুর।

মন্তব্য পড়ুন 0