default-image

আবার চীনা বিনিয়োগ আসছে ভারতে। ২ শতাধিক কোটি ডলারের ৪৫টি বিনিয়োগ প্রস্তাব শিগগিরই ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। যেসব কোম্পানি এই বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গ্রেট ওয়াল মোটর এবং সাইক মোটর করপোরেশন।

২০২০ সালের জুনে দুই দেশের সীমান্ত বিরোধে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। সম্প্রতি চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই সংঘাতে তাদেরও ৪ সেনা নিহত হয়েছেন। সংঘাতের আগেই এসব প্রস্তাব পাইপলাইনে ছিল। এত দিন রাজনৈতিক উত্তেজনায় এসব থমকে ছিল।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সেনা কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বিতর্কিত প্যাঙ্গং হ্রদ এলাকা থেকে উভয় পক্ষই সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ভারত ও চীন কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা উভয়েই এ অঞ্চলে উত্তেজনা নিরসনে কাজ করবে। তারপরই খবর এল, ভারত ৪৫টি চীনা বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দিতে যাচ্ছে।

তবে এখানেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ ভুলছে না ভারত। ইকোনমিক টাইমস–এর প্রতিবেদক সরকারি সূত্র দিয়ে বলেছেন, মূলত উৎপাদন খাতের বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করবে ভারত, যেগুলোর কারণে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কম।

গ্রেট ওয়াল ও জেনারেল মোটরস গত বছর তাদের ভারতীয় কারখানা বিক্রির জন্য বড় এক চীনা কোম্পানির দ্বারস্থ হয়েছিল। কারখানাটি তারা ২৫ থেকে ৩০ কোটি ডলারে বিক্রি করতে চায়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে গ্রেট ওয়াল আগামী ২ বছরে ভারতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। তারা বলছে, ভারতে ব্যবসা করা তাদের বৈশ্বিক পরিকল্পনারই অংশ। তারা এ বছর থেকেই ভারতের বাজারে গাড়ি বিক্রি করতে চায়। এমনকি তারা বৈদ্যুতিক গাড়িও নিয়ে আসতে চায়। তারা এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

২০০৯ সাল থেকে সাইক ভারতে গাড়ি বিক্রি শুরু করে। তারা মূলত ব্রিটিশ ব্র্যান্ড এমজি মোটরের নামে কাজ করত। এরা ভারতে ৬৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়, যার মধ্যে ৪০ কোটি ইতিমধ্যে বিনিয়োগ করেছে তারা।

মোট ১৫০টি চীনা বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে ভারতে। জাতীয় নিরাপত্তার সাপেক্ষে তিনটি শ্রেণিতে এই বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো ভাগ করা হয়েছে। অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক ও রাসায়নিক শিল্পে বিনিয়োগ প্রস্তাব জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়নি। তবে তথ্য ও আর্থিক খাতে বিনিয়োগ প্রস্তাব স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা ইকোনমিক টাইমসকে বলেছেন, স্পর্শকাতর নয় এমন খাতের বিনিয়োগ প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদন পাবে। আর যেসব প্রস্তাব স্পর্শকাতর বিবেচিত হবে, সেগুলোর অনুমোদনে বিলম্ব হবে।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন