default-image

‘কোভিড-১৯ মহামারি অর্থনীতির চঞ্চলতাকে থামিয়ে দিয়েছে। যেহেতু অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, আমরা যে অর্থনীতিকে জানতাম তা সম্ভবত অতীত হচ্ছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েল বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে এভাবেই বিশ্লেষণ করেন। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সেন্ট্রাল ব্যাংকিংয়ের ওপর ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের ফোরামে এক ভার্চ্যুয়াল প্যানেল আলোচনায় পাওয়েল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পুনরুদ্ধার করছি তবে ভিন্ন অর্থনীতির।’ তিনি বলেন, মহামারিটি প্রযুক্তির ব্যবহার, টেলি ওয়ার্ক এবং অটোমেশনসহ অর্থনীতি ও সমাজের বিদ্যমান নানা প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। মানুষ কীভাবে বাঁচবে ও কাজ করবে তাতে এর স্থায়ী প্রভাব থাকবে।

পাওয়েল বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দীর্ঘ মেয়াদে সমাজের জন্য সাধারণত ইতিবাচক হলেও স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে তা ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। বাজার নতুন সাধারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে থাকলেও সবার ওপর তার একরকম প্রভাব পড়ে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, স্বল্প বেতনের শ্রমিকেরা, সেই সঙ্গে খুচরা বা রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের মতো সম্মুখশ্রেণির কর্মীরা এই পরিবর্তনের ভার বহন করবেন। বেশি প্রভাব পড়বে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর। ছড়িয়ে পড়া এই মহামারি ইতিমধ্যে তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রভাব ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন

পাওয়েল আরও বলেন, মহামারি-পরবর্তী অর্থনীতি কম উৎপাদনশীল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কারণ এই সংকটে শিশু যত্নের দায়বদ্ধতার কারণে অনেক নারী তাঁদের চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন এবং শিশুরা তাদের প্রাপ্য পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে না। সাধারণভাবে বলতে গেলে, বৈষম্য অর্থনীতিকে পিছিয়ে রাখছে। এমনকি বেকারত্বের হার কমে গেলেও এবং একটি ভ্যাকসিন এলেও সম্ভবত শ্রমিকদের একটি বড় অংশের সহায়তার প্রয়োজন হবে।

মহামারির প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখনো বেকার কর্মীর সংখ্যা বিপুল। সহায়তার কিছু সুবিধা ইতিমধ্যে হ্রাস পেয়েছে। আরও কিছু সুবিধা হয়তো বছরের শেষের দিকে শেষ হয়ে যাবে। তখন এই মানুষগুলো আরও বেশি বিপদে পড়বে। এ অবস্থায় নতুন প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা।

অর্থনীতিবিদেরা আশা করছেন, পুনরুদ্ধার অব্যাহত রাখতে পরবর্তী প্রশাসন শ্রমিক এবং ব্যবসায় সহায়তার জন্য আরও প্রণোদনা বিল পাস করার ব্যবস্থা করবে। এর আগেও পাওয়েল বিভিন্ন সময় বলেছেন যে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক উভয়কেই অর্থনীতিতে আরও প্রণোদনা দিতে হবে। গতকাল আবারও একই কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের ও কংগ্রেসের আরও কিছু করা দরকার।’

মন্তব্য পড়ুন 0