বিজ্ঞাপন
default-image

এ ছাড়া বোয়িংয়ের আইনি দায়বদ্ধতা অবশ্যই এই ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১ জন ভুক্তভোগীর পরিবারকে গড়ে ১২ লাখ ডলার দিয়েছে বোয়িং। অর্থাৎ ৫০ কোটি ডলারের মতো। এখানেই শেষ নয়। বোয়িং ব্যয় বহনের জন্য ৫ শতাংশ সুদে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে। সংস্থাটি গ্রাউন্ডিংয়ের সময় ৪৫০ ম্যাক্স জেট তৈরি করেছিল, তবে প্রায় দুই বছর এটি একটিও ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান বিক্রি করতে পারেনি। আরও নানা হিসাব–নিকাশ মিলিয়ে দেখা যায় শেষমেশ ব্যয় অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলারের গিয়ে ঠেকবে।

বিক্রি হারিয়েছে

এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষ যে ব্যয়ের বিবরণ দেওয়া হলো তাতে ইতিহাসের করপোরেট ভুলের জায়গায় বোয়িংয়ের নাম থাকার কথা নয়। কারণ বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় করপোরেট ভুল হিসেবে ধরা হয় ব্রিটিশ পেট্রলিয়ামের ‘ডিপওয়াটার হরায়জন এক্সপ্লোশন’। ওই ঘটনায় বিপিকে বহন করতে হয় ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি। তবে বোয়িংয়ের প্রত্যক্ষ ক্ষতি সেদিকে না গেলেও দীর্ঘমেয়াদি একটা ক্ষতি বহন করতে চলতেই হচ্ছে বোয়িংকে। তাদের বিক্রি ব্যাপক কমেছে। এই দুই বছরে ওই মডেলের যত অর্ডার ছিল সব বাতিল হয়। সেই সঙ্গে কোভিড মহামারির কারণে বিমান ভ্রমণের চাহিদা কমেছে। অনেক বিমান সংস্থায় কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে চুক্তি বাতিলের সুবিধা নিচ্ছে। এ বছর বোয়িংয়ের ম্যাক্স মডেলের ৪৪৮টি অর্ডার বাতিল করতে হয়েছে। অন্যদিকে অন্য মডেলের উড়োজাহাজ অর্ডার বাতিল হয়েছে ৯টি। স্পষ্টতই ওই দুর্ঘটনার প্রভাবে এই মডেলের অর্ডার বাতিল হয়েছে বেশি। একটি ৭৩৭ ম্যাক্স সাধারণত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি ডলারে বা উল্লিখিত দামের অর্ধেকে বিক্রি হয়, সেই হিসাবে বোয়িংয়ের জন্য সবচেয়ে খারাপ হলো বিক্রয় কমে যাওয়ায় বোয়িং আয় হারাবে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলার। তাই বলা যায় বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম করপোরেট ভুল হলো বোয়িংয়ের এই ৭৩৭ ম্যাক্স।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন