default-image

বাংলাদেশ যখন এক টাকার কাগুজে নোট ছাপানো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারত তখন দুই দশক পরে আবারও এক রুপি বা এক টাকার নোট ছাপাতে চলেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরবিআই (রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বছর বিশেক ধরে ভারত এক টাকার কাগুজে নোট ছাপায়নি। তবে এখন আবার এক টাকার কয়েন বা ধাতব মুদ্রা বাজারে ছাড়ছে।
আরবিআই গত শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, ২০১১ সালের কয়েনএজ আইন অনুযায়ী এ ধরনের মুদ্রার নোট ছাপানো যায়। নতুন নোট ছাপানো হলেও বর্তমানে বাজারে প্রচলিত বা পুরোনো নোটও আইনগতভাবে চালু থাকবে। এটির সম্মুখভাগে গোলাপি-সবুজ রং ও উল্টো পিঠে অন্যান্য রঙের মিশেল থাকবে।
আরবিআই জানায়, ভারত সরকার শিগগিরই নতুন এক টাকার নোট ছাপাবে। এতে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকবে। বর্তমানে এক টাকার ধাতব মুদ্রা বাজারে ছাড়ছে সরকার। অন্যান্য নোট ছাপায় আরবিআই এবং সেগুলো গভর্নরের স্বাক্ষরে ছাপা হয়।
ভারতে ১৯৯৪ সালের নভেম্বর থেকে এক টাকার কাগুজে নোট ছাপানো বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে মুদ্রণ বা তৈরির খরচটা বেশি পড়ার কারণেই মুদ্রাটি তৈরি বন্ধ করা হয়েছিল।
এদিকে দেশটিতে ১৯৯৫ সাল থেকে দুই টাকা ও পাঁচ টাকার নোট ছাপানোও বন্ধ রয়েছে। তবে ছাপা বন্ধ থাকলেও বাজারে এগুলো এখনো চালু আছে। অবশ্য দুই ও পাঁচ টাকার কয়েন বা ধাতবমুদ্রা ছাপানো অব্যাহত রয়েছে।
ভারতে বর্তমানে ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ ও ১০০০, টাকার কাগুজে নোট ছাপানো হয়।
ব্যাংক খাত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এক টাকার নতুন নোট ছাপানো কোনো প্রতীকী পদক্ষেপ নয়। বাজারে এটি চালুর চাহিদা রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজার থেকে এক ও দুই টাকা মূল্যমানের কাগুজে মুদ্রা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে গত মাসে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। দুই দিন পরেই অর্থমন্ত্রী অবশ্য তাঁর বক্তব্য সংশোধন করে জানান, এক ও দুই টাকার মুদ্রা তুলে নেওয়া হবে না। অর্থাৎ বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এগুলো থাকবে।
বর্তমানে এক ও দুই টাকা সরকারি নোট। বাকিগুলো ব্যাংক নোট। সরকার চায় পাঁচ টাকাকে ব্যাংক মুদ্রার পরিবর্তে সরকারি মুদ্রায় রূপান্তর করতে এবং অর্থসচিবের সই থাকবে শুধু পাঁচ টাকায়।
সূত্র: পিটিআই ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন