বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আগস্টে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের বিপরীতে কিয়েট দরপতন শূন্য দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিনিময় হার অনেক বেড়ে যাওয়ায় ১০ সেপ্টেম্বর সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। ডলারের সংকট এতটাই তীব্র যে কিছু মুদ্রা ব্যবসায়ী তাঁদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক মুদ্রা ব্যবসায়ী পোস্ট দিয়েছেন, ‘এখন থেকে মুদ্রার দামের অস্থিতিশীলতার কারণে...নর্দার্ন ব্রিজ এক্সচেঞ্জের সব সার্ভিস শাখা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।’

এখনো যাঁরা তাঁদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা প্রতি ডলারের বিপরীতে ২ হাজার ৭০০ মিয়ানমারের মুদ্রা বা কিয়েট চাচ্ছেন। অথচ ১ সেপ্টেম্বরে এটি ছিল ১ হাজার ৬৯৫ কিয়েট। গত ১ ফেব্রুয়ারি যখন সেনাবাহিনী নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বে গড়া গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে, তখন এটি ছিল ১ হাজার ৩৯৫ কিয়েট।

গত সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে, বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে যে চলতি বছর দেশটির অর্থনীতি ১৮ শতাংশ সংকুচিত হবে। এর মধ্যে মহামারির আংশিক প্রভাব আছে। এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় সংকোচন হবে। ব্যাপক হারে বাড়বে দারিদ্র্য। মিয়ানমারও করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলা করছে। তবে শুরুতে কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছিল না, পরে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী বিক্ষোভে শুরু করলে কর্তৃপক্ষ প্রতিক্রিয়া দেখায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংক্রমণ কমেছে বলে জানালেও তা প্রকৃত তথ্য কি না, সেটা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট পণ্য মূল্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, মিয়ানমারে এখন প্রায় ৩০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, অভ্যুত্থানের আগে যা ছিল ১০ লাখ। এখন ৪৮ কেজির এক ব্যাগ চালের দাম ৪৮ হাজার কিয়েট, যা ফেব্রুয়ারি থেকে ৪০ শতাংশ বেশি। গ্যাসের দাম বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। এক লিটারের দাম ১ হাজার ৪৪৫ কিয়েট। এই সংকট ব্যবসা-বাণিজ্যেরও মারাত্মক ক্ষতি করছে, বিশেষত যাঁরা কাঁচামাল আমদানি করেন।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন